এখনই উপনির্বাচন চান মমতা, করোনার কারণে আপত্তি জানাবে বিজেপি

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২১, ২২:৩০

পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এখনই বিধানসভার বাকি থাকা সাত আসনে উপনির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। একটি আসনের উপনির্বাচনে লড়বেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে। এজন্য নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে তৃণমূল। কিন্তু মমতাকে আটকাতে মরিয়া রাজ্যের বিরোধীদল বিজেপি। করোনা বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই বলে নির্বাচন কমিশনকে জানাবে দলটি। গত মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল আসনে জয়ী হলেও নন্দীগ্রাম আসনে হেরে               যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তাকে উপনির্বাচনে জিততে হবে। আগামী ৫ নভেম্বর ছয় মাস পূর্ণ হবে। অর্থাত্ এই সময়ের মধ্যে উপনির্বাচন না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে পদত্যাগ করে সরকার ভেঙে দিয়ে একদিন পর ফের শপথ নিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস তাই মরিয়া দ্রুত উপনির্বাচন করার জন্য। যে সাতটি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা অবিলম্বে সেখানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি নিয়ে তাই কমিশনে যাবেন তৃণমূলের পাঁচ এমপি। তৃণমূল সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে দিল্লিতে কমিশনের দপ্তরে অবিলম্বে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানানো হবে। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরসহ রাজ্যে সাতটি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। ভবানীপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির।

কিন্তু বিজেপি চাইছে, নির্বাচন যেন ৫ নভেম্বরের পরে হয়। আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, এই ব্যাপারে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী একমত। সেই ঐকমত্যের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এখন উপনির্বাচন না-করতে আটটি কারণ দেখিয়েছে রাজ্য বিজেপি।

দিলীপ ঘোষ বুধবার বলেন, রাজ্যে করোনা বিধি চালু রয়েছে। স্কুল, কলেজ, ট্রেন বন্ধ। এই অবস্থায় নির্বাচন হবে কীভাবে? নির্বাচন চাইলে সবকিছু স্বাভাবিক বলে জানিয়ে দেওয়া হোক। খবরে বলা হয়েছে, এখনই নির্বাচন চায় না। নির্বাচন না হলে মমতাকে অন্তত এক দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিতে হবে।

কয়েকটি ‘রাজনৈতিক যুক্তি’ও দিয়েছে বিজেপি। তারা বলছে, করোনা পরিস্থিতির কথা বলে রাজ্য সরকারই ১২২টি পৌরসভার নির্বাচন আটকে রেখেছে। রাজ্যে পূর্ণ গরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল সরকার চলছে। ফলে সাতটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন না হলেও সরকার সংকটে পড়বে না।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ৯টি মামলা করেছে সিবিআই

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় মোট ৯টি মামলা দায়ের করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার সিবিআইয়ের চার জয়েন্ট ডিরেক্টর কলকাতায় পৌঁছান। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার ৯টি মামলা দায়ের হলো। গত ১৯ আগস্ট নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তদন্তের জন্য সিবিআইকে আদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সিবিআইকে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।