এবার আফগানিস্তান গেছে দুই জঙ্গি

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ০০:৪৫

বাংলাদেশ থেকে কয়েক দল যুবক সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদে যোগ দিতে আফগানিস্তানে গিয়েছিল আশির দশকে। চার দশক পরও পূর্বসূরিদের দেখানো পথেই হেঁটেছে এখনকার কিছু তরুণ। তালেবান বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে এবার দুই জন আফগানিস্তানে পৌঁছেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের চার জন সহকর্মী পুলিশকে তাদের বন্ধুদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে।

সর্বশেষ গত ১০ মে চার যুবককে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জসিমুল ইসলাম জ্যাক (২৫), হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের মার্কাজুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল মুকিত (২৯), সিলেটের আল হিদায়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আমিনুল হক (২০) ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সজীব ইখতিয়ার (২০)। তাদের গ্রেফতারের পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তরুণদের আফগানিস্তানমুখী হওয়ার প্রবণতার কথা জানতে পারে। অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসে এদের কাছ থেকে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারকৃত চার জনের কাছ থেকে আমরা অনেক তথ্যই পেয়েছি। গ্রেফতারকৃত এই চার জনের কাছ থেকে ‘সাইন্স প্রোজেক্ট’ নামে একটি চ্যাট গ্রুপের তথ্য পেয়েছি। ঐ গ্রুপে ১০ যুবক সম্পৃক্ত ছিল। তাদের চার জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। এই ১০ জন গত দুই বছর ধরে একে অপরকে চেনে। কাউন্টার টেররিজমের অপর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ১০ জনের মধ্যে দুই জন ইতিমধ্যে আফগানিস্তান পৌঁছেছে বলে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে। তারা হলেন, সিলেট থেকে নিখোঁজ হওয়া আব্দুর রাজ্জাক ও শিব্বির আহমেদ। তারা আফগানিস্তানের পার্বত্য অঞ্চলে পৌঁছেছে।

গত ২৫ মার্চ কুমিল্লার আব্দুর রাজ্জাক নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তার ভাই সালমান খান সিলেটের কোতোয়ালি থানার একটি সাধারণ ডায়ারি করেন। গাড়ি চালক সালমান খান বলেন, আমার ভাই সিলেটের মদন মোহন কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। করোনা শুরুর পর সে বাড়ি চলে গিয়েছিল। তিন মাস কুমিল্লায় নিজেদের বাড়িতে থাকার পর এ বছরের শুরুর দিকে সে আমাকে জানায় কলেজে আসবে। আমি তার কাছে জানতে চাই, কোথায় থাকবে তুমি। সে বলে বন্ধুর কাছে থাকব। পরে আমি তাকে আসতে বলি। এখানে আসার দুই দিন পরই তাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। মোবাইল ফোনও বন্ধ। পরে আমি জিডি করি। তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, আমার ভাই নাকি আফগানিস্তান গেছে। আমি বাবা-মাকে এখনো কিছু বলিনি। বয়স্ক মানুষ, তারা শুনলে কষ্ট পাবেন। আমাদের চার বোন আর তিন ভাই। বড় ভাই সৌদি আরবে থাকেন। আর রাজ্জাক সবার ছোট। পুলিশ বললেও আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না যে, সে আফগানিস্তান গেছে। পরে জানলাম, তার সঙ্গে তার এক বন্ধুও নিখোঁজ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে শিব্বির আহমেদও একসঙ্গে নিখোঁজ হয়েছেন। শিব্বির স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ত। চ্যাট গ্রুপের ১০ জনের মধ্যে চার জন বাংলাদেশে গ্রেফতার হয়েছে। গত ১২ জুলাই ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন আরো তিন জন। কলকাতার গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বেহালা থেকে নাজিউর রহমান, রবিউল ইসলাম, সাব্বির আহমেদ নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, এই তিন জনও ঐ ১০ জনের চ্যাট গ্রুপের সদস্য। এরা আফগানিস্তানে যাচ্ছিল বলেই ধারণা কাউন্টার টেররিজম কর্মকর্তাদের। এর বাইরে আরো এক জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সেখানে পৌঁছেছেন এমন তথ্যও মেলেনি।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সজীব ইখতিয়ার গ্রেফতারের পর জানিয়েছেন, সিলেটে ‘আবদুল্লাহ’ নামে এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং তাদের পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখতে বলেছিল। তার বন্ধু রাজ্জাক আফগানিস্তানে পৌঁছে তাকে ফোনও করেছিল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা আফগানিস্তানে গেছে তারা কেউ দেশে ফিরলেই গ্রেফতার করা হবে। তাদের ব্যাপারে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে কতজন গেছে সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত না।