স্পোর্টস রিপোর্টার
ঢাকায় বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে মোহামেডান এবং শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল লিগের একাধিক ক্লাব। এই ম্যাচের ওপর তাকিয়ে ছিল আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনী। কারণ লিগ রানার্সআপ হওয়ার একটা লড়াই ছিল। শেখ জামাল সেই লড়াইয়ে জিতেছে। গতকাল বিকালে বৃষ্টি ভেজা মাঠে শেখ জামাল ২-০ গোলে মোহামেডানকে হারিয়ে লিগ রানার্সআপ হয়েছে। গোধূলী লগ্নে ম্যাচ জিতে শেখ জামালের ফুটবলাররা উল্লাস করছিল। আর্মি স্টেডিয়ামের একতলা গ্যালারির আশপাশে নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকরা তাকিয়ে দেখছিলেন তারা মনে করছেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর অন্যদিকে মোহামেডানের ফুটবলাররা ইংলিশ কোচ শনলেন, ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব, আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, সাব্বির, জনি, আহমেদ, হকির সাজিদ আদিলরা নীরব। রেফারি এবং সহকারী রেফারিদের প্রতি ক্ষুব্ধ মোহামেডান। সাদাকালোরা সুবিচার পায়নি।
আর্মি স্টেডিয়ামে এবার লিগের তিন ম্যাচ খেলেছে মোহামেডান। প্রথম ম্যাচ খেলেছিল ১৯৮৭ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবলের প্লেঅফ ম্যাচ ছিল আবাহনীর বিপক্ষে। শিরোপা-নির্ধারণী সেই ম্যাচে দর্শক ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার লিগের তিনটি ম্যাচ খেলে গতকাল শেখ জামালের বিপক্ষে হেরেছে। চতুর্থ স্থান নিয়ে মোহামেডান এবারের অভিযান শেষ করল।
লিগে বসুন্ধরা আগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। লিগ রানার্সআপ হবার অপেক্ষা ছিল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে কাল সবার নজর ছিল। মোহামেডান জিতলে আবাহনীকে ছুঁয়ে ফেলতে। কাল হেরে যাওয়ায় বেঁচে গেছে আবাহনী। বসুন্ধরার বিপক্ষে ম্যাচ বাকি আছে আবাহনীর।
শেখ জামাল-মোহামেডান ম্যাচে অঘটন ঘটেছে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল হজম করে মোহামেডান। ৫২ মিনিটে গাম্বিয়ান অধিনায়ক সলোমন কিং গোল করে এগিয়ে দেন। সেই গোল ফিরিয়ে দিতে পারেনি মোহামেডান। ৮৯ মিনিটে এই সলোমন কিং দ্বিতীয় গোল করেন। ম্যাচ শেষের দিকে আরো উত্তেজনা। জয় নিশ্চিত উত্তেজিত শেখ জামালের ফুটবলাররা। উজবেক ফুটবলার ওটাবেক সরাসরি লালকার্ড পান। তার পর আরো উত্তেজিত হন তিনি। মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শনলেনের দিকে তেড়ে যান। মোহামেডানের ফুটবলাররা এসে ওটাবেককে থামান। পেশাদার লিগের চতুর্থ আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। শেষ বার ২০১৩-১৪ এবং ২০১৫ সালে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় এই ক্লাব। ২০১৮ সালে লিগ রানার্সআপ হয়েছিল।
