কাপাসিয়ায় ভাগিনাকে ফাঁসাতে খুন করে ফেঁসে গেল মামা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ২১:৪৯

এক বছর পর রহস্য বের করল পিবিআই

কাপাসিয়া (গাজীপুর) সংবাদদাতা

কাপাসিয়ায় বোনের জমি আত্মসাত্ করতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করে ভাগিনাকে খুনের মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে মামা নিজেই ফেঁসে গেছেন। এ ঘটনায় ভাড়াটে খুনি মো. দুখু মিয়া ওরফে সুমন (২২) আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।

তিনি বলেন, কাপাসিয়া উপজেলার সালুয়াটেকি গ্রামের আলোচিত ইদ্রিস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই গাজীপুর। এ ঘটনায় জড়িত ভাড়াটে খুনি দুখু মিয়াকে ২৫ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়েছে। সে গাজীপুর জেলার টোক ইউনিয়নের শহরটোক গ্রামের মো. লিটন মিয়ার ছেলে। নিহত ইদ্রিস সালুয়াটেকি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট সকালে ইদ্রিসের মৃতদেহ সালুয়াটেকি গ্রামে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদের নানার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরপাড়ে পাওয়া যায়। ইদ্রিসের গলায় ধারাল অস্ত্রের গুরুতর জখম ছিল। এ ঘটনায় ইদ্রিসের মা মোর্শেদা থানায় এজাহারনামীয় ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা তিন-চার জন আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশ পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান। দুখু মিয়াকে গত ২৫ আগস্ট টোক বাইপাস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান আরো বলেন, ১ নম্বর আসামি সৈয়দ জহির আহসান জাহিদের সঙ্গে তার নানার বাড়ির সম্পত্তির ওয়ারিশ নিয়ে তার মামা রবিন ভূইয়ার বিরোধ দেখা দেয়। মায়ের ওয়ারিশের সম্পত্তি চাইলে তার মামা রাজি না হওয়ায় জাহিদ স্থানীয় রফিক এবং রফিকের ভাগিনা নিহত ইদ্রিসের সহযোগিতায় জমি দখল নেয়। এই সুযোগে ইদ্রিস জাহিদের সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা বলে জাহিদের অগোচরে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়। বিষয়টি জাহিদ বুঝতে পারায়  ইদ্রিস ও তার মামা রফিকের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এ কারণে ইদ্রিস পরে জাহিদের মামা রবিন ভূঁইয়ার পক্ষ নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে জাহিদ তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দেখিয়ে ইদ্রিসকে ভয় দেখায়। এই সুযোগে রবিন ভূইয়া তার পৈত্রিক সম্পত্তি তার ভাগনে জাহিদকে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রেফতারকৃত আসামি মো. দুখু মিয়াসহ তার সহযোগী আসামিদের দিয়ে ভিকটিম ইদ্রিসকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি করে।

২০২০ সালের ২৪ আগস্ট রাত ২টার সময় আসামিরা ইদ্রিসকে ইয়াবা ট্যাবলেট আনার জন্য মোবাইল ফোনে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইদ্রিসের গলা চেপে ধরে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে ও এলোপাতাড়ি মারপিট করে ইদ্রিসকে হত্যা করে। নানা বাড়ির যে ঘরে মাঝেমধ্যে জাহিদ ঘুমাতো ঐ ঘরের পিছনে পুকুরপাড়ে ইদ্রিসের মৃতদেহ ফেলে রাখে। দুখু মিয়াকে ২৫ আগস্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের নাম উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।