যেভাবে দেশ ছেড়ে পালালেন আফগানিস্তানের প্রথম নারী মেয়র

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ২১:৫৩

আফগানিস্তানের প্রথম নারী মেয়র জারিফা গাফারি। তিনি সবসময় আফগান নারীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে আসছেন। যার কারণে গোষ্ঠীটির চোখে খারাপ বলে পরিচিতি পান। সম্প্রতি তালেবান কর্তৃক কাবুল দখল করার পর থেকেই তার জীবন হুমকির মুখে পড়ে। সেটি থেকে বাঁচতে কয়েকদিন পরই গোপনে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন তিনি। বর্তমানে জার্মানিতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ বছর বয়সী জারিফা গাফারি আফগানিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় সরকারি কর্মকর্তা বনে যান। পাশাপাশি তিনি সবসময় নারী অধিকারের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি তালেবানকে নারী অধিকারের জন্য হুমকি বলে বিশ্বাস করেন। বলেন, আমার কণ্ঠে এমন শক্তি আছে যা বন্দুকের নেই।

তালেবান কর্তৃক কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরই জারিফাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, যখন দেখেন যে, তালেবান যোদ্ধারা তার বাড়িতে এসে নিরাপত্তারক্ষীকে নির্যাতন করেন।

২০১৮ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে ময়দান শার শহরের মেয়র নির্বাচিত হন জারিফা গাফারি। এরপর থেকেই তিনি বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন। যা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। গত বছর শত্রুরা তার বাবাকে হত্যা করে। যিনি আফগান মিলিটারির সিনিয়র সদস্য ছিলেন।

যেভাবে কাবুল থেকে পালালেন জারিফা

গত ১৮ আগস্ট, কাবুল বিমানবন্দরে পরিবারসহ যাওয়ার জন্য একটি গাড়ি ম্যানেজ করেন তিনি। এরপর নিজেকে সম্পূর্ণ কালো বোরকা ও হিজাব দিয়ে ঢেকে ফেলেন। এভাবে তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ও তাদের চেকপয়েন্ট পার হয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান।

জারিফা গাফারি বলেন, যখন আমরা বিমানবন্দরের গেইটে পৌঁছালাম তখন চারদিকে তালেবান সদস্যরা ঘোরাফেরা করছিল। এমন অবস্থায় নিজেকে তাদের চোখের আড়াল করতে কষ্ট হচ্ছিল। বিমানবন্দরে তুর্কি রাষ্ট্রদূত আমাদেরকে ইস্তানবুলের ফ্লাইট ধরতে সহায়তা করেন। এরপর সেখান থেকে জার্মানিতে পৌঁছাই।

তিনি বলেন, যখন আমি বাবাকে হারাই, তখন ভেবেছিলাম এমন কষ্ট যেন জীবনে আর পেতে না হয়। কিন্তু যখন আমি দেশ ছাড়ার জন্য বিমানে চেপে বসলাম, সেটি বাবা হারানোর থেকেও বেশি বেদনাদায়ক ছিল।

‘কাবুল পতনের দিনটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত। আমি কখনই এই ব্যাথা সামলাতে পারবো না। নিজের দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনাই আমার ছিল না।’

ইত্তেফাক/টিএ