রামেক হাসপাতালে ফের অতিরিক্ত কর্মচারীর পদোন্নতি

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৮

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতিতে আবারও অনিয়ম, সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সিনিয়রদের পরিবর্তে যোগসাজশ করে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়ায় বঞ্চিত এক কর্মচারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে অফিস সহকারীর মোট পদ ১৮টি। এর মধ্যে দুটি  শূন্য পদে গত ৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৩ ফেব্রুয়ারি ১২ কর্মচারী আবেদন করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে তখন পদোন্নতির কার্যক্রম স্থগিত করে। কিন্তু ১৩ জুলাই পদোন্নতির নির্বাচনি বোর্ড গঠন ও লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের চিঠি দেওয়া হয়। ১৫ জুলাই কম্পিউটারে লিখিত পরীক্ষা হয়। ২৪ জুলাই চার জনকে পদোন্নতি দিয়ে ফল প্রকাশ করা হয়।

সূত্র জানায়, পদোন্নতির বোর্ড গঠনের সময় অফিস সহকারীর চারটি পদ শূন্য ছিল। পদোন্নতির পরীক্ষার দিন দুই জন অফিস সহকারীকে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ পদ দুটিও শূন্য পদে যোগ করে ছয়টি শূন্য পদ দেখানো হয়, যা অনিয়ম।

এদিকে ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য বিভাগের নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় বলা আছে, শূন্য পদের শতকরা ৩০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৭০ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। এ হিসেবে ছয়টি পদ শূন্য থাকলেও দুই জনের বেশি পদোন্নতি দেওয়া যায় না। ফলে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিধি লঙ্ঘন করে চার জনকে পদোন্নতি দিয়েছেন। সূত্র মতে, এর আগে ২০০৪ সালে বিধি লঙ্ঘন করে শূন্য পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অফিস সহকারী আব্দুল কবির এবারও উচ্চমান             সহকারী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। 

এদিকে, সিনিয়রদের পরিবর্তে যোগসাজশ করে জুনিয়রদের পদোন্নতির ফলে বঞ্চিত অফিস সহায়ক শেখ গোলাম মোস্তফা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও রামেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, পদোন্নতিপ্রাপ্ত একজন সিনিয়র, বাকিরা জুনিয়র। পরীক্ষার দিন দায়িত্বপ্রাপ্তরা ১০ মিনিট কম্পিউটারে অনির্দিষ্ট লেখালেখির নির্দেশ দেন। অজ্ঞাত কারণে পাঁচ মিনিট পরই তাকে লেখা বন্ধ করতে বলেন। এরপর তাকে পরিচালকের অফিসে ডেকে পদোন্নতির বিষয়বহির্ভূত প্রশ্ন করা হয়। এ সময় উপ-পরিচালক তাকে বেশ উলটা-পালটা প্রশ্ন করেন। পদোন্নতির বিষয়টি উপ-পরিচালক আগেই নির্ধারণ করে রেখে তাকে পরিচালকের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, পদোন্নতিপ্রাপ্তদের চাকরির বয়স সাত বছরের মধ্যে। অথচ ১৫/১৬ বছর চাকরিরত শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন অনেকে পদোন্নতি পাননি। সিনিয়রদের পরিবর্তে দুর্নীতিগ্রস্ত জুনিয়রদের পদোন্নতি হয়েছে। জুনিয়র এমএলএসএস রফিকুলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সায়ফুল ফেরদৌস মো. কামাল আতাতুর্ক অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ১৮টি শূন্য পদের মধ্যে ১৪টিতে সরাসরি নিয়োগ হয়েছে। বাকি চারটিতে বিভাগীয় প্রার্থীদের পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, যারা কম্পিটারে পারদর্শী তাদের পদোন্নতি হয়েছে। সিনিয়র যারা কম্পিউটারে পারদর্শী নয়, তারা বাদ পড়েছে। অভিযোগকারী কম্পিউটারে পারদর্শী কেউ পদোন্নতি বঞ্চিত হলে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।