ট্রলার ডুবে ২১ যাত্রী নিহত

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ০০:৪৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার একটি বিলে বালুবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবোঝাই ট্রলার ডুবে কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছে। অর্ধশতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের ভাতেরখলা এলাকার লইসকা বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মির্জা মোহাম্মদ হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ট্রলারটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখার সময়  নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করছিল।

এদিকে দুই ট্রলারের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বালুবোঝাই ট্রলার ও এর (বাল্কহেড) তিন কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক জানান, এ পর্যন্ত ২১ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি সদর উপজেলার আনন্দবাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে লইসকা বিল এলাকায় বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ২১ লাশ উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনার সময় ট্রলারটিতে থাকা যাত্রী মোহাম্মদ রাফি বলেন, আমি চম্পকনগর ঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য ট্রলারে উঠি। আমি ছাদে বসেছিলাম। বালুবাহী ট্রলার ধাক্কা দিলে আমাদের ট্রলারটি উল্টে যায়। তখন আমি পানিতে ঝাঁপ দেই। পরে সাঁতরে তীরে এসে ফায়ার সার্ভিসে কল দিলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা আসেন। ৪ থেকে ৫ জনের লাশ তিনি ভাসতে দেখেছেন বলে জানান। আঁঁখি আখতার নামের অপর যাত্রী জানান, আমি সাঁতরে কূলে উঠতে পারলেও আমার ছেলে, ভাসুরের ছেলে ও শাশুড়ির সন্ধান এখনো পাইনি।

হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারি

এদিকে নৌ-দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে সদর হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। স্বজনদের মরদেহ দেখে কেউ বিলাপ করছেন, আবার কেউ ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন। কীভাবে বালুবোঝাই ট্রলারটি যাত্রীবাহী ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়েছে। সাঁতরে বেঁচে আসা কয়েকজন এসব ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যান। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান অনেকে।

উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকার স্বজন হারানো সামছুল হক ভূইয়া বলেন, ‘কিছুদিন হলো আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে চম্পকনগর বাজার এলাকার ইটালী প্রবাসী সাইফুলের সঙ্গে। দুর্ঘটনায় মেয়ে প্রাণে বাঁচলেও তার শাশুড়ি মারা গেছেন। এটা অনেক কষ্টের।’