করোনায় শনাক্তের হার ১০ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৫১

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার ধারায় দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার নেমে এসেছে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর্যায়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা গত ১০ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ গত ১৯ জুন এর চেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছিল এক দিনে। সেদিন মোট ৩ হাজার ৫৭ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্ত রোগীর হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ; আগের দিন বৃহস্পতিবার এই হার ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল। আর সর্বশেষ এরচেয়ে কম শনাক্তের হার ছিল ৯ জুন, সেদিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

দেশে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে আরো ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে গত এক দিনে, যা আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪ হাজার ৬৯৮ জন নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল। আর মৃত্যু হয়েছিল ১০২ জনের। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৫৩ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হল; তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৫ হাজার ৮৪৬ জনের। গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ১ হাজার ৬১৩ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে যা দিনের মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি। আগের দিন এ বিভাগে ২ হাজার ৬০১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ১৪ লাখ ৪ হাজার ৩৭০ জন। দেশে করোনাতে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৭ হাজার ২৯৪টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৭ হাজার ৫৭৮টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৪৩টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৬৫ লাখ ৩২ হাজার ৯২৬টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৭টি। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১৭ জনের মধ্যে পুরুষ ৪৫ জন আর নারী ৬১ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৬ হাজার ৮১৬ জন আর নারী মারা গেলেন ৯ হাজার ৩০ জন। তাদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন তিন জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৩৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিন জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এক জন আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা গেছে এক জন।