বরিশালে মাদকাসক্ত চিকিত্সা কেন্দ্রে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৩

বরিশালে হলিকেয়ার নামক একটি মাদকাসক্ত চিকিত্সাসহায়তা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে নির্যাতনের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত যুবকের নাম চন্দন সরকার। বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতের কোনো এক সময় তার মৃত্যু হলেও শুক্রবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। চন্দন সরকার বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বড়পাইকা এলাকার চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে।

হলিকেয়ার চিকিত্সাকেন্দ্রের ভলান্টিয়ার সরোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, রাত সোয়া ৩টার দিকে আমাকে ডেকে তুলে জানানো হয়, একজন টয়লেটে আত্মহত্যা করেছে। উঠে দেখি চন্দন সরকার গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আমরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মেঝেতে রাখি। তবে চন্দন সরকারের উচ্চতা বাথরুমের উচ্চতার কাছাকাছি হওয়ায় তার আত্মহত্যার বিষয়টি অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দাবি করছেন তার পরিবারের লোকজন ও সেখানে থাকা চিকিত্সাধীনরা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী কমিশনার শারমিন সুলতানা রাখী ইত্তেফাককে জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে হলিকেয়ার কেন্দ্র থেকে চন্দন সরকারের লাশ উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে এ বিষয়ে কী ঘটেছিল তা স্পষ্ট হবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

গত ৭ আগস্ট হলিকেয়ার মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্রে চন্দন সরকারকে ভর্তি করান তার মামা নিবাস মহুরী। এর আগেও চন্দন মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্রে ছিলেন। চন্দন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ঐ কেন্দ্রের রোগী এবং দায়িত্বরতরা জানিয়েছেন। কয়েক দিন ধরেই রাতে চন্দন নির্ধারিত বিছানায় থাকতেন না। এ নিয়ে রোগীদের মধ্যেও কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে চন্দন তার নির্ধারিত বিছানায় পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমাতে গেলে পাশের রোগীরা তাতে বাধা দেয়। এ নিয়ে সে সময় চন্দনের সঙ্গে এক রোগীর কিল-ঘুষির ঘটনাও ঘটে। একাধিক রোগী জানান, এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবাই যে যার মতো ঘুমাতে গেলে রাত ৩টার কিছু সময় পরে রোগীদের চিত্কার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে যায়। সবাই জানতে পারেন, চন্দন টয়লেটের ভ্যান্টিলেটরের সঙ্গে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তারা দাবি করেন, টয়লেটের ভ্যান্টিলেটরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করা অসম্ভব। চন্দন অনেক লম্বা ছিল। তাকে মেরে ভিন্ন গল্প সাজানো হচ্ছে।

নিহত চন্দন সরকারের মামা নিবাস মহুরী বলেন, ভাগ্নেকে যখন এখানে দিয়ে যাই, তখন কোমরের বেল্টটি পর্যন্ত রাখতে দেয়নি। রশি বা গামছা তো দূরের কথা। তাহলে হত্যায় গামছা পেল কীভাবে? প্রশ্ন করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ভোর রাতে হলিকেয়ার থেকে মোবাইলে আমাকে জানানো হয়, চন্দন আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করি না। আত্মহত্যা করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করবে। কিন্তু এখানে লাশ পুলিশ উদ্ধার করেনি, হলি কেয়ারের লোকজনই বাথরুম থেকে লাশ ফ্লোরে এনে রেখেছে। এটি হত্যাকাণ্ড দাবি করে তিনি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

হলিকেয়ারের ব্যবস্থাপক মাইনুল হক তমাল বলেন, হলিকেয়ার মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্রে মোট ২৮ জন রোগী ভর্তি ছিল। তাদের মধ্যে এক জন মারা গেছে। পুলিশ চন্দন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। বিস্তারিত তারাই বলতে পারবেন।