সড়ক সংস্কারে মানা হচ্ছে না নীতিমালা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৩

নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজধানীর অলিগলিসহ বেশকিছু সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বেড়েছে দুর্ভোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিমালা না মেনেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। তার ওপর রয়েছে, মেট্রোরেলের কাজ। ফলে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। বৃষ্টির পানি জমে কর্দমাক্ত পথ। রাস্তা কাটার কারণে সরু হয়ে যাওয়া, রাস্তার পাশে মাটির স্তূপ। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী । নগরের এমন যানজট ভোগান্তি আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনসহ সেবা সংস্থাগুলোকে রাতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে রাজধানীবাসী।

রাজধানীর তেজগাঁও, এলিফেন্ট রোড, মতিঝিল, বংশাল, ফকিরাপুল, আগাসাদেক লেন, ফুলবাড়িয়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে দেখা দিয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। তীব্র যানজট। বর্ষা মৌসুমে (মে থেকে সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কোনো সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না। কাটাছেঁড়াও করা যাবে না। খননকাজ করতে হবে রাতের বেলা। সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে খননকাজ শুরু করলে মূল খরচের পাঁচ গুণ জরিমানা গুনতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলেও দিতে হবে জরিমানা। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে জনগণের ভোগান্তি কমাতে এমন বেশ কিছু বিধান রেখে ‘ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা-২০১৯’ চূড়ান্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কাগজে-কলমে নীতিমালা করা হলেও তা মেনে চলার বালাই নেই । অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লি­ষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যেকার সমন্বয়ের অভাবেই রাজধানীবাসীর কপালে জোটে এমন দুর্ভোগ।

সরেজমিন কাওরান বাজার, খামারবাড়ি মোড়, তেজগাঁও এলাকায় দেখা গেছে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার চারটি প্রধান সড়কের প্রত্যেকটিতে কাটা ও খোঁড়া হয়েছে, যার কাজ কিছু সম্পন্ন হলেও এখনো পুরোপুরি দুর্যোগমুক্ত সড়কে পরিণত হয়নি।

আগারগাঁও থেকে বাংলামোটর যাওয়া এক অফিসযাত্রী বলেন, ‘বাসে ওঠে বসি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে থাকতে, বাস থেকে নেমে হেঁটে অফিসে পৌঁছাতে হয়। প্রতিদিন অফিসে দেরিতে পৌঁছানোর অজুহাত অফিসের বস শুনবে না। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটেই অফিসে যেতে হয়।’

তেজগাঁও এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ‘কিছুদিন আগেও যখন লকডাউন চলছিল, তখন দ্রুত কাজ শেষ করতে পারত। অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। মানুষজনও খুব একটা বের হতো না। পথঘাট ফাঁকা ছিল। তখনই যদি সড়কের উন্নয়ন কাজগুলো করা হতো, তাহলে এখন এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না। এখন যেহেতু কাজগুলো শুরু হয়েছে। সড়ক খোঁঁড়াখুঁড়ি চলছে। কাজেই সেগুলো দিনের বেলা না করে রাতে করলে ভোগান্তি কম হতো। ’

পুরান ঢাকার কিছু সড়ক কাটা। রিকশা বা প্রাইভেট কার তো দূরের কথা পথচারীর হেঁটে চলাচল করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বে এই অবস্থার অবসান চায়।

মতিঝিলের প্রায় বেশির ভাগ সড়কই খুঁড়ে রাখা হয়েছে। গোপীবাগ, টিকাটুলী, কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, ফকিরাপুল এলাকার সড়কগুলো কেটে রাখা হয়েছে। এসব সড়কের মাথায় কেটে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে ঐসব পথ দিয়ে যাতায়াতকারীরা রিকশা কিংবা প্রাইভেট কারে এসে দেখতে পান সড়ক কাটা। তখন তাদের আর সামনে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। পেছনে যাবে, তারও সুযোগ থাকে না। কারণ ততক্ষণে পেছনে একটির পর আরেকটি গাড়ি এসে জটলা লেগে যায়। এসব কারণেও সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে ভোগান্তি।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, প্রথমত জনদুভোর্গকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার যে শর্ত, তা মানা হয় না। বিভিন্ন সংস্থা মনে করে, তার মন্ত্রীর মাধ্যমে তিনি অনেক শক্তিশালী। কিন্তু এসব সমন্বয় করার জন্য সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের গায়ে চাপিয়ে দেওয়ারও একটা প্রবণতা রয়েছে ঐ সংস্থাগুলোর। জনভোগান্তিকে নিরসন করে সেই প্রকল্পগুলো করা হচ্ছে কি না, কারণ জনগণের ভোগান্তি নিরসনে অর্থ বরাদ্দ সংযোজন করা থাকে, কিন্তু সেই খরচও তারা করে না। জনগণের ভোগান্তির মাধ্যমে যে অপচয় হয় তা কয়েকটি প্রকল্পের সমান। ফলে এসব বিষয়ে সিটি করপোরেশনের আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।