গানে কথায় কবিতার উচ্চারণে জাতীয় কবিকে স্মরণ করেছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। গতকাল শুক্রবার সকালে অনলাইনে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করে নজরুল ইনস্টিটিউট। রাতে ‘মিলনে বিরহে নজরুল’ শীর্ষক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট। বিকালে বাংলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নজরুল বিষয়ক আলোচনাসভা।
ছায়ানটের নজরুল বন্দনা
ছায়ানটের আয়োজনে ‘মিলনে বিরহে নজরুল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয় ছায়ানটের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে। শুরুতেই ‘জাগো অমৃত-পিয়াসী চিত’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ম্প্রভা তাথৈ। পরেই ছিল গানের পরিবেশনা। ‘কেন আন ফুলডোর আজি বিদায়বেলা’ গানটি গেয়ে শোনান প্রিয়ন্তু দেব। মিরাজুল জান্নাত সোনিয়ার শোনান ‘বিদায় বেলায় করুণ সুরে’ শীর্ষক সংগীত। শ্রাবন্তী ধর শুনিয়েছেন ‘কাছে আমার নাইবা এলে’। আফরোজা শারমিন পাপড়ি গেয়েছেন ‘মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে’। মোহিত খান গেয়েছেন, ‘হে প্রিয় আমারে দেব না ভুলিতে/মোর স্মৃতি তাই রেখে যাই শত গীতে’। আফরোজা বানু পাঠ করেছেন চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের কবিতা ‘তোমারে পড়িছে মনে’। নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি গেয়ে শোনান ‘তবু মুখখানি খুঁজিয়া ফিরি গো’। তানভীর আহমেদের গাওয়া গানটি ছিল ‘সে চলে গেছে বলে’। বিভাষ রঞ্জন শুনিয়েছেন ‘সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়’। ঐশ্বর্য সমাদ্দার শোনান ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’। মইদুল ইসলাম পরিবেশন করেন ‘আমি চাঁদ নহি, চাঁদ নহি অভিশাপ’। শারমিন সাথী ইসলাম ময়না গেয়েছেন ‘তোমার আমার এই বিরহ’। নজরুলের কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘এ মোর অহংকার’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন সৈয়দ হাসান ইমাম। শাহীন সামাদ গেয়েছেন ‘নহে নহে প্রিয়’। অনন্যা শিলা শামসুদ্দীন শুনিয়েছেন ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব’। ‘হে পার্থ সারথী বাজাও’ গানের সুরে সমবেত নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
বাংলা একাডেমির আয়োজন
বিকালে অনলাইনে নজরুলকে নিবেদিত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর। ‘বিদ্রোহী’র শতবর্ষ, জাগরণের শতবর্ষ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক খালেদ হোসাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম। ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’ শীর্ষক নজরুলগীতি পরিবেশন করেন শিল্পী সালাউদ্দিন আহমদ। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল বাংলা কবিতায় সম্পূর্ণ নতুন স্বরের সংযোজক। রবীন্দ্রনাথের প্রভাব-বলয়ের বাইরে গিয়ে তিনি কবিতা-প্রকরণ, কাব্যভাষা ও বিষয়বস্তুতে নবচেতনা সঞ্চার করেছেন। তার এই নতুনত্বের প্রয়াস পরিলক্ষিত হয় ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও, শতবর্ষ পরেও যার আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা একবিন্দু হ্রাস পায়নি।
মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনার পূর্বের বাংলা কবিতা আর ‘বিদ্রোহী’ রচনার পরের বাংলা কবিতা এক নয়। বাংলা কবিতার গতিপথকে বদলে দিয়েছিল ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। শতবর্ষ পেরিয়ে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা এখনো নতুন তাত্পর্য ও প্রাসঙ্গিকতায় আমাদের কাছে ধরা দেয়।
