গল্পকথায় পদার্থবিজ্ঞান
মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক
সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
বুধবারের পর
অণু বলল, আজ কতক্ষণ সূর্যগ্রহণ হবে?
আজকে গ্রহণ শুরু হবে ১১টা ২৩মিনিটে এবং শেষ হবে ২টা ৫২ মিনিটে।
বিন্দু বলল, আমি আবার দেখব, তোমার সানগ্লাসটা নিয়ে আসি।
কমলা বাধা দিয়ে বললেন, না না, সানগ্লাস দিয়ে দেখা ঠিক হবে না, সানগ্লাসের পুরুত্ব ১২ মিলিমিটারের কম।
রেখা বলল, কিন্তু যাদের গ্লাস ফিল্টার নেই, তারা কীভাবে দেখবে।
নীলকান্তবাবু বললেন, সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকিয়ে দেখবে। একটা পেট বা পাত্রে পরিষ্কার পানি নিয়ে কিছুটা হলুদের গুড়া মিশিয়ে সেই পানিতে সূর্যের প্রতিবিম্ব দেখতে পারবে।
চন্দ্রা বলল-চাঁদ যদি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে, তাহলে তো অমাবস্যা হয়, পূর্ণিমা চাঁদ বোঝানোর সময় তুমি বলেছিলে মামা।
হ্যাঁ, অমাবস্যা তিথির পর নতুন চাঁদ উঠার সময় সূর্যগ্রহণ হয়। সূর্যের আলোকরশ্মি যখন চাঁদ দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখন প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া সৃষ্টি হয়। চাঁদ তো সূর্যের চেয়ে অনেক ছোট, তাই প্রচ্ছায়া ছোট, আর উপচ্ছায়া বড় হয়। প্রচ্ছায়া পৃথিবীর যে অংশে পড়ে, সেই অংশে সূর্যের কোনও অংশই দৃষ্টিগোচর হয় না। সেই অংশে তখন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। পৃথিবীর যে অংশে উপচ্ছায়া পড়ে সেই অংশের মানুষ কিছুটা গ্রহণ দেখতে পায়, সেটি হচ্ছে আংশিক সূর্যগ্রহণ।
কিন্তু তাহলে সকল অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না কেন? কমলা বললেন।
হয় না, কারণ প্রত্যেক অমাবস্যায় চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকে না।
কেন একই সরল রেখায় থাকে না?
কারণ চাঁদের কক্ষপথ বৃত্তাকার নয়, উপবৃত্তাকার। ফলে চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব বাড়ে কমে। চাঁদ যখন পৃথিবীর কাছে আসে, তখন এর দূরত্ব হয় ৩৬৩৩০০ কিলোমিটার। আর যখন দূরে যায়, তখন দূরত্ব হয় ৩৮৪৪০০ কিলোমিটার। এছাড়া চাঁদ ও পৃথিবীর কক্ষতলও এক নয়, কৌণিক ব্যবধান ৫ডিগ্রি। এর ফলে প্রত্যেক অমাবস্যায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পড়ে না। চাঁদ কখনও ছায়ার উপর দিকে কখনও নিচে থাকে।
সীমা বলল, বছরে কয়টি সূর্যগ্রহণ হয়?
পৃথিবীতে বছরে দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ হয়। এর মধ্যে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয় শূন্য থেকে দুইটি। বললেন নীলকান্তবাবু। চন্দ্রগ্রহণ থেকে সূর্যগ্রহণ বেশিবার হয়। প্রতি সাতটি গ্রহণের মধ্যে সূর্যগ্রহণ চার থেকে পাঁচবার হতে পারে।
কমলা বললেন-মজা বেশি তো হলো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময়।
কী মজা? বিন্দু উত্সুক দৃষ্টিতে তাকায়।
মজা হচ্ছে তখন হঠাত্ করে দিনের বেলায় রাতের অন্ধকার নেমে আসে। পশু পাখিরা বুঝতে না পেরে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয় এবং বাসায় ফিরতে শুরু করে। আবার দেখে সূর্য উঠে আলো দিচ্ছে, দিন চলে এসেছে। মাঠের মধ্যে এদের কথাবার্তা এবং চেঁচামেচি শুনে পাশের বাড়ির রাহুল এসে দাঁড়িয়েছে। নীলকান্তবাবু রাহুলকে বললেন, তুমি দেখবে?
পরের অংশ আগামীকাল
