বিজ্ঞান
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক
দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজকে তৃতীয় অধ্যায় অর্থাত্ ‘ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন’ থেকে সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন তুলে ধরা হলো।
ঈদের দিন সকালে রাইয়্যান মিষ্টান্ন খাওয়ার সময় লক্ষ্য করলো মিষ্টান্নের কিসমিসগুলো ফুলে টসটসে হয়ে আছে। অপর দিকে রাইয়্যানের বোন নূসফাত তার স্কুল ড্রেসে নীল দিতে গিয়ে লক্ষ্য করলো নীলের ফোঁটা পানিতে পড়ার সাথে সাথে পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ক. অর্ধভেদ্য পর্দা কাকে বলে?
খ. প্রস্বেদনকে কেন ‘Necessary evil’ বলা হয়?
গ. কোন প্রক্রিয়ায় নূসফাতের নীল পানিতে ছড়িয়ে গেল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রাইয়্যানের লক্ষ্য করা কিসমিস ফুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। যেমন- কোষ পর্দা, ডিমের খোসার ভিতরের পর্দা, মাছের পটকার পর্দা ইত্যাদি।
খ. উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ দেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি ‘Necessary evil’.
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত নূসফাতের স্কুল ড্রেসে নীল দেওয়ার সময় নীলের অণুগুলো পানিতে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে গেল। আমরা জানি সব পদার্থই কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এই অণুগুলো সবসময় গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলির ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাপন। ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলি গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্ব যুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রকার চাপকে ব্যাপন চাপ বলে। কোনো পদার্থের অণুর ব্যাপন ততক্ষণ চলতে থাকে যতক্ষণ না উক্ত পদার্থের অণুগুলো ঘনত্ব সর্বত্র সমান হয়। নূসফাত স্কুল ড্রেসে নীল দেওয়ার সময় পানিতে নীল ছড়িয়ে যাওয়ার কারণ, নীলের অণুর ঘনত্ব পানির অণুর ঘনত্বের চেয়ে বেশী। তাই ব্যাপন চাপের ফলে বেশি ঘনত্বের নীলের অণুগুলো কম ঘনত্বের পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে রাইয়্যানের লক্ষ্য করা কিসমিস অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে ফুলে গেছে। অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
i. পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন খনিজ লবণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করে।
ii. উদ্ভিদ এককোষী মূলরোম দিয়ে মাটিস্থ পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শোষণ করে ।
iii.অভিস্রবণের কারণে রসস্ফীতি ঘটে ফলে উদ্ভিদের কাণ্ড ও খাড়া থাকে।
iv.পত্ররন্ধ্র খোলা বা বন্ধ হওয়া অভিস্রবণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ।
v. উদ্ভিদের অভ্যন্তরে এক কোষ হতে অন্য কোষে পানি চলাচল, কোষের বৃদ্ধি, কোষের স্বাভাবিক আকার ও আকৃতি ঠিক রাখা, কোষের দৃঢ়তা প্রদান, মাটি হতে রস উত্তোলন, বীজের অঙ্কুরোদগম প্রভৃতিতে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, অভিস্রবণ প্রক্রিয়া দ্বারা উদ্ভিদের সার্বিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ হয়। তাই উদ্ভিদের জন্য অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব অপরিসীম।
