পঞ্চম শ্রেণির বাড়ির কাজ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ১৯:২৩

বিজ্ঞান

হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক

সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

পদার্থ

১) যখন টিভি চালানো হয় তখন শক্তির কী কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর:যখন টিভি চালানো হয় তখন বিদ্যুত্ শক্তি আলোক, তাপ এবং শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। শক্তির এরূপ পরিবর্তনই হলো শক্তির রূপান্তর। বিদ্যুত্ শক্তির সাহায্যে টেলিভিশন চলে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুত্ শক্তি আলোক, তাপ এবং শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলোক শক্তির সাহায্যে আমরা ছবি দেখি এবং শব্দ শক্তির সাহায্যে কথা শুনি। টেলিভিশনে উত্পন্ন তাপ শক্তি বাইরের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

২) ঠাণ্ডা পানির গ্লাস হাত দিয়ে ধরে রাখলে হাত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তোমার বন্ধু মনে করে গ্লাসের ঠাণ্ডা হাতে চলে যাওয়ার কারণে হাত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তার ধারণাটি কী সঠিক? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:আমার বন্ধুর ধারণাটি সঠিক। কারণ, আমরা জানি যে, কঠিন বস্তুর মধ্য দিয়ে তাপ পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়। আমার বন্ধু যখন ঠাণ্ডা গ্লাসটি হাত দিয়ে ধরে তখন তার হাত তুলনামূলক গরম হওয়ায় গ্লাসের ঠাণ্ডা তার হাতে পরিবহন পদ্ধতিতে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমার বন্ধুর ধারণাটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।

৩) যখন পাতিলে ভাত রান্না করা হয় তখন তাপ কীভাবে সঞ্চালিত হয়?

উত্তর: যখন পাতিলে ভাত রান্না করা হয় তখন তাপ প্রথমে পরিবহন এবং পরে পানির অংশে পরিচলন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়।

ভাতের পাতিলে পানি ও চাল দিয়ে নিচে তাপ দিলে ধাতব পাতিলের অণুগুলো উত্তপ্ত হয়ে পরিবহন প্রক্রিয়ায় তাপ পানিতে পৌঁছায়। পাতিলের সংস্পর্শে থাকা পানির অণুগুলো উত্তপ্ত হয়ে উপরে উঠে যায় এবং উপরে থাকা ঠাণ্ডা পানির অণুগুলো নিচে নেমে আসে। এভাবে সমগ্র পাতিলের পানি উষ্ণ হয়ে ওঠে। পানির অণুতে তাপ সঞ্চালনের এ প্রক্রিয়া হলো পরিচলন। তাই বলা যায়, পাতিলে ভাত রান্না করার সময় তাপ পরিবহন ও পরিচলন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়।

৪) বাড়ির আশেপাশে বৃক্ষ রোপণ করে কীভাবে শক্তি সংরক্ষণ করা যায়?

উত্তর:বাড়ির আশেপাশে বৃক্ষরোপণ করা হলে এই গাছপালা আমাদের ছায়া প্রদান করবে। এছাড়া বাড়ির চারপাশ গাছপালা ঘেরা হলে সূর্যের আলো তুলনামূলকভাবে কম হারে বাড়ির ছাদ ও দেওয়ালকে উত্তপ্ত করবে। এতে গরমের অনুভূতি কম হবে এবং বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহারও কমে যাবে। এভাবে বাড়ির আশেপাশে বৃক্ষরোপণ করে শক্তি সংরক্ষণ করা যায়।

বনের হাতিটা দেখতে অদ্ভুত চেহারার ছিল

বাংলা

মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

হাতি আর শেয়ালের গল্প

প্রশ্ন-১। অনেক দিন আগে মানুষ কী শিখছিল?

উত্তর:অনেক দিন আগে মানুষ যা শিখছিল: অনেক দিন আগে মানুষ সমাজে মিলেমিশে বসবাস করার কায়দাকানুন শিখছিল। তখন আজকের মতো সমাজব্যবস্থা ছিল না। কেউ বনে-জঙ্গলে বাস করত, কেউ বা বাস করত পাহাড়ের গুহায়। তখন প্রকৃতি ছিল সবুজ-শ্যামল।

চারদিকে ঝোপঝাড়ে ভরা। মানুষ প্রকৃতি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করত। বুনো জীবজন্তুর সঙ্গে লড়াই করে বাঁচত। এরপর মানুষ সামাজিক হতে শুরু করে। বন-জঙ্গল থেকে দূরে বসবাসের জন্য সমাজ গড়ে তোলে। আর পশুরা থাকে জঙ্গলে। এ রকম দিনগুলোতে মানুষ কেবল বসবাসের নিয়ম-কানুন শিখছিল।

প্রশ্ন-২। হাতিটা দেখতে কেমন ছিল?

উত্তর:হাতিটা দেখতে যেমন ছিল: বনের হাতিটা দেখতে অদ্ভুত চেহারার ছিল। হাতিটার ছিল বিশাল শরীর। তার পাগুলো বটপাকুর গাছের মতো মোটা ছিল। শুঁড় এতই লম্বা ছিল, যেন আকাশের গায়ে গিয়ে ঠেকবে। তার গায়ে যেমন অনেক শক্তি ছিল, তেমনি মেজাজটাও ছিল খারাপ। হাতিটা তার শরীর আর শক্তির জোরেই অহংকার করে। বনের মধ্যে হাতিটা ঢুকে পড়লে অন্য প্রাণী আর পাখিদের সুখ নষ্ট হয়। হাতিটার চেহারার চেয়ে স্বভাব ছিল খারাপ।

প্রশ্ন-৩। হাতিটা বনে ঢুকে কী ধরনের আচরণ করেছিল?

উত্তর:হাতিটা বনে ঢুকে যে ধরনের আচরণ করেছিল: হাতিটা বনে ঢুকেই তার শরীর আর শক্তির অহংকার দেখায়। বনের চারদিকে তোলপাড় শুরু করে। হাতিটা গলা ফাটিয়ে খুব জোরে গর্জন শুরু করে। বনের অন্য পশু ও পাখ-পাখালি হাতিটার আগমনে সুখ-শান্তি হারিয়ে ফেলে।

প্রশ্ন-৪। হাতির আস্তানায় ঢুকে শেয়াল হাতিটাকে কীভাবে, কী বলেছিল?

উত্তর: ‘হাতি আর শেয়ালের গল্প’-তে আমরা একটি অত্যাচারী হাতি ও একটি বুদ্ধিমান শেয়ালকে পাই।

হাতির আস্তানায় শেয়াল যেভাবে যা বলেছিল: শেয়াল পশুদের মধ্যে বুদ্ধিমান ছিল। বনের মধ্যে একদিন একটা হাতি প্রবেশ করে সব পশু-পাখির সুখ কেড়ে নেয়। একদিন বনের সমস্ত পশু-পাখিরা বুদ্ধি করে হাতিটার অত্যাচার থেকে একটা প্রতিকারের ব্যবস্থা করল। দায়িত্ব দেওয়া হলো বুদ্ধিমান শেয়ালকে। শেয়াল ভয়ে ভয়ে হাতিটার বসবাসের জায়গায় গেল। লেজ গুটিয়ে, হাঁটু গুটিয়ে হাতিকে সালাম দিল। তারপর বলল, হাতি মহাশয় আপনাকে বনের সব পশু-পাখি রাজা হিসেবে বরণ করে নিতে  চায়।