আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ৫০ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত আছেন। উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চতুর্দিকে মেঘনা নদী। শিক্ষাবঞ্চিত এ এলাকার দুই কৃতী সন্তান মিঞা মোঃ এরশাদ উল্যাহ্ এবং আবদুর রশিদ অত্র এলাকায় একটি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেন। পরে এই দুই ভাই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ১৯৬৭ সালে তাঁদের গ্রাম রাধানগরে ৪২ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়।
ছোট্ট পরিসরে বিদ্যালয়টি ১২ জন শিক্ষক এবং ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ১৯৬৮ সালে। ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়ে রয়েছে বিশাল মাঠ, পরিবেশ যথেষ্ট নিরিবিলি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৬৩৯ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদানের জন্য ১৫ জন এমপিওভুক্তসহ ২৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। কর্মচারী রয়েছেন ৫ জন। এছাড়া আছে লাইব্রেরি, ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস।
স্কুলের শিক্ষক জিয়াউর রহমান জানান, আড়াইহাজার উপজেলায় বরাবরই ভালো ফল করে থাকে স্কুলটি। এ বিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দাতাদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে স্থাপিত হয়ে অদ্যাবধি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন কাজী এ.কে আব্দুল বারী। এরপরে এ.এফ.এম সাইফুল ইসলাম শেখ, এ.কে এম এরশাদুল হক, মোঃ আমজাদ হোসেন, সুধীর চন্দ্র সরকার, মোঃ এরশাদুল্লাহ্, সচীন্দ্র নাথ দাস, মোঃ আফাজ উদ্দিন, শাহজাহান ফারুক, মনীন্দ্র চন্দ্র শীল, মোঃ সাহাবুদ্দিন , মোঃ সাহাজ উদ্দিন, মোঃ শামসুল হক (ভারপ্রাপ্ত) এবং বর্তমানে সুবল চন্দ্র ঘোষ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন।
বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামসুল আলম কামাল জানান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পরিচালনা কমিটি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র ঘোষ জানান, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর রাখতে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন তারা। বিদ্যালয়ের আরো কিছু অবকাঠামোর প্রয়োজন। এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা পোহাতে হয়। এ বিষয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
এই স্কুলেরই এক সময়কার ছাত্র ও বর্তমান শিক্ষক মোঃ শামসুল হক জানান, অভিজ্ঞ শিক্ষক, সুযোগ্য কমিটি ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছে। আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করতে সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল জনশক্তি তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।
