রৌমারী ও রাজীবপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ২১:২৪

গো খাদ্যের তীব্র সংকট

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশের বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে দুই উপজেলার প্রায় ১ লাখ মানুষ। শুকনো খাবার ও পশুখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, চরশৌলমারী, বন্দবেড়, যাদুরচর ও রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ ও রাজীবপুর উপজেলার তিন ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও পশুখাদ্যের জন্য হাহাকার চলছে বন্যাকবলিত এলাকায়। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে।

বাইটকামারী গ্রামের হেলাল, জহির, আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমাগো বাড়ি বাঁধের ভেতরে থাকলেও সরকারিভাবে স্লুইসগেট বন্ধ না করায় আমাগো সব ধান তলায়া গেছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেও স্লুইসগেট বন্ধ করতে পারি নাই। বাঁধের ভেতরের হাজার হাজার একর ধানখেত বন্যার পানিতে তলায়া গেছে।’

ফলুয়ারচর গ্রামের ওসমান আলী, জাইদুল ইসলাম, ছবুর মিয়া, আতাউর মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানি বাড়ায় আমাগো ঘর বাড়ি তলায়া গেছে। গরু বাছুর পোলাপান নিয়া আমরা রাস্তার উপর আশ্রয় নিছি। কোনো কাজ কাম নাই। খাইয়া না খাইয়া দিন যাইতেছে আমাগো। আমরা সব সময় চিন্তায় থাকি নদীর কাছে আমাগো বাড়ি কোনসুম যে বাড়ি ঘর ভাঙা নদীতে নিয়া যায়।’ উপজেলার উত্তর বাগুয়ারচর গ্রামের হালিমন, যাহেলা খাতুন, বাছিরন বলেন, ‘নিজেগোর খাবার জোগামু না গরু ছাগলের খাবার জোগামু। আমরা কোন রিলিফ সাহায্য পাই নাই। আমন ধান সব পানিতে তলায়া গেছে, আমাগো বাঁচার কোনো উপায় নাই।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রৌমারী উপজেলায় এক লাখ টাকা, ২৫ টন জিআরের চাউল ও রাজিবপুরে ৫০ হাজার টাকা, ১৫ টন জি আর এর চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে হটলাইন ৩৩৩-এ ফোন দিলে আমরা খাবার তার বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিই।