পাবনায় পাটের ভালো দাম পাচ্ছে চাষি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ২১:২৬

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় এবার পাটের ফলন কম হলেও দাম ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন পাটচাষিরা। তারা বলছেন, অনাবৃষ্টির কারণে এবার পাট ছোট ছোট আকৃতি হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি ফলন ১০ মণের জায়গায় এবার কম পাট পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে চলমান হাটে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার পাট চাষের পর প্রয়োজন মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তেমন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি চাষিদের। ফলে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর পাবনায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে সাঁথিয়া উপজেলায়। দামও গত বছর থেকে এ বছর বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। সরেজমিনে জেলার টেবুনিয়া, দুবলিয়া, সাঁথিয়ার বোয়াইলমারী ও আতাইকুলা হাটে গিয়ে দেখা যায়, এ বছর মানভেদে পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে। যেমন আমদানি তেমনি ফড়িয়া, ব্যাপারী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে।

পাবনা সদরের মালিগাছার রফিকুল ইসলাম, মনোহরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, সেলিম হোসেন, গাছপাড়ার আব্দুর রহমান, আটঘরিয়ার তারাপাশা গ্রামের পাটচাষি আবুল কালাম আজাদ, দেবোত্তরের ইন্তাজ আলী বিশ্বাসসহ বেশ কয়েক জন পাটচাষি জানান, প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ৭-১০ মণ। প্রতি বিঘা জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা, পচানি দিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা নেওয়ার পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পাট ছিলা এবং রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১১-১২ হাজার টাকা খরচ হয়।

পাবনা শহরতলির আরিফপুর হাজিরহাটে আসা সাদুল্লাপুর গ্রামের জালাল প্রামাণিক জানান, তিনি এ বছর সাত বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে ভালো ফলন না পেলেও দামে মোটামোটি পুষিয়ে যাচ্ছে। দুবলিয়া অঞ্চলের আসলাম মিয়া জানান, ‘আমি এ বছর চার বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছি। তবে দুই বিঘাতে ভালো ফলন হলেও অন্য দুই বিঘাতে পানি থাকায় পাট বড় হতে পারে নাই। এতে ফলন কম হয়েছে। তবে দাম ভালো পেয়ে কিছু হলেও লাভের মুখ দেখতে পেয়েছি। এরকম বাজার থাকলে আগামীতে আরো পাট চাষ করব।’

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, এবার উপজেলায় ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো। এভাবে দাম থাকলে অবশ্যই পাটচাষিরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। পাট চাষে উদ্বুদ্ধসহ সব ধরনের পরামর্শ চাষিদের মধ্যে কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়।