ডেঙ্গু নির্মূলে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ২১:৩৮

মানববন্ধনে বক্তারা 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কমলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে চলেছে। হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞদের মতে, করোনার মতো ডেঙ্গুও তার রূপ বদলাচ্ছে। দুই তিন বছর আগে ডেঙ্গুর যে রকম লক্ষণ দেখা যেত এখন তা দেখা যাচ্ছে না। হঠাত্ করেই জ্বর বা সামান্য জ্বর। দুই-তিন দিনের মধ্যে প্লাটিলেট কমে যায়, রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। ডেঙ্গুর সঙ্গে পেটে কিংবা বুকে পানি জমে, হার্টের সমস্যার মতো জটিলতা এবার বেশি হচ্ছে। আবার অনেকের করোনা এবং ডেঙ্গু হচ্ছে। ডেঙ্গুতে শিশুদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু সরকারের একার পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সবার সমন্বিত উদ্যোগ। গতকাল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম জোরদার এবং গণউদ্যোগ বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নাসফসহ ১৭টি সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব স্থায়ী হবে। অতীতে ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এ বছর সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করার লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা না হলে আগামী বছরগুলোতে সারা দেশে ডেঙ্গু ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস এবং জনসচেনতা সৃষ্টি করা জরুরি।

তাদের পরামর্শ, এডিস মশাকে ফগিং করে এবং রিপ্লেন্ট ও এরোসলের মাধ্যমে মেরে ফেলতে হবে। মশা ও মানুষের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। রোগীদের বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে। এদের কামড়ালেই মশা ডেঙ্গু ভাইরাস পেয়ে যাচ্ছে এবং ৮-১০ দিনের মধ্যে সে সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে। সংক্রমিত হয়ে যাকে কামড়াচ্ছে, সেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মীদের রিপ্লেন্ট, মশার ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। রোগীদের মশারি, ওষুধ  এবং হাসপাতালের জানালায় নেট ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতি বছরই আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে সবচেয়ে বেশি। এ বছরের আগস্ট মাসও তার ব্যতিক্রম নয়। আর যেভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তাতে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের               সংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট আবহাওয়ার তারতম্যের কারণেই এই শঙ্কা থাকে। ডেঙ্গুর সঙ্গে বৃষ্টির ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। বৃষ্টির পর রাস্তায়, বাড়ির ছাদে বা যেকোনো জায়গায় যে পানি জমে, সেটিই ডেঙ্গুর লার্ভা বেড়ে ওঠার আদর্শ পরিবেশ। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টি কতটুকু হবে, সেটিও হয়তো ডেঙ্গুর প্রকোপের অন্যতম নিয়ামক হয়ে উঠবে। তবে ভারী বর্ষণ না হয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বা থেমে থেমে বৃষ্টি হলে যে পানি জমে থাকে তা এডিস মশার প্রজননে অত্যন্ত সহায়ক। এগুলোই মূলত নির্ধারণ করবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কেমন থাকবে।

মানববন্ধনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, নাসফ-এর সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, বাংলাদেশ গ্রীনরুফ মুভটেন্টের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. গোলাম হয়দার, বিডি ক্লিক-এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।