চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৯

ক্যানসারে আক্রান্ত কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বাংলাবাজারের নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। ছয় মাস আগে বুলবুল চৌধুরীর ক্যানসার ধরে পড়ে। এর পর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিত্সা নেন। কিন্তু ক্যানসার তার শ্বাসযন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তিনি কিছু খেতে পারছিলেন না। কেমো নেওয়ার মতো তার শারীরিক অবস্থাও ছিল না। চিকিত্সকের পরামর্শে বাসায় চলছিল তার চিকিত্সা। শেষে সেই ক্যানসারের কাছে পরাজিত হলেন তিনি। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২১ সালে সরকার তাকে একুশে পদকে সম্মানিত করে।

অতি সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত বুলবুল চৌধুরী ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়ালেখা করেছেন          তত্কালীন জগন্নাথ কলেজে। কলেজে গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় ‘জোনাকি ও সন্নিকট কেন্দ্র’ গল্পের জন্য দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার প্রথম লেখা বের হয় ১৯৬৭ সালে। পেশাজীবনের শুরুতে পুরান ঢাকায় ছাপাখানার ব্যবসা ছিল এই কথাসাহিত্যিকের। পরে দীর্ঘ সময় সংবাদপত্রে কাজ করেছেন তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে :ছোট গল্পগ্রন্থ—টুকা কাহিনি, পরমানুষ, মাছের রাত, চৈতার বউ গো। উপন্যাস—অপরূপ বিল ঝিল নদী, কহকামিনী, তিয়াসের লেখন, অচিনে আঁচড়ি, মরম বাখানি, এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে, ইতু বৌদির ঘর, দখিনা বাও, জলটুঙ্গি, পাপপুণ্যি, ঘরবাড়ি, দম্পতি, বলো কি অনুভব প্রভৃতি।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে আরো পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জসীমউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার প্রভৃতি।

বুলবুল চৌধুরীর মরদেহ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ রবিবার সকাল এগারোটায় বাংলা একাডেমিতে নিয়ে যাওয়া হবে।