দেশের রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাসের জনপ্রিয় লেখক ও অনুবাদক শেখ আবদুল হাকিম (৭৫) আর নেই। গতকাল শনিবার বেলা ১টায় তিনি রাজধানীর মাদারটেকের নন্দিপাড়ায় বড় মেয়ের বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। শেখ আবদুল হাকিম ছেলে শেখ পুলক হাসান, দুই মেয়ে শেখ সাদিয়া হাকিম, শেখ আপালা হাকিমসহ আত্মীয়স্বজন এবং সারা দেশে তার লেখার অসংখ্য গুণমুগ্ধ পাঠক রেখে গেছেন। তার স্ত্রী ফরিদা বেগম ছয় বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। গতকাল বাদ মাগরিব নন্দিপাড়া মসজিদে তার জানাজা সম্পন্ন করে নন্দিপাড়া কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শেখ আবদুল হাকিম দীর্ঘদিন থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে রোগের তীব্রতা বেড়ে গেলে তাকে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিত্সায় কিছুটা উন্নতি হওয়ায় শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হতে থাকে। গতকাল দুপুরে তার অবস্থা হঠাত্ই খারাপের দিকে মোড় নেয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
শেখ আবদুল হাকিমের জন্ম ১৯৪৬ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। তার বাবার নাম শেখ আবদুর রফিক। তারা পাঁচ ভাই, তিন বোন। দেশভাগের পর তারা ঢাকায় চলে আসেন। শেখ আবদুল হাকিম গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে দেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা সেবা প্রকাশনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পেশাদার লেখক হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় বইয়ের রচয়িতা। তার অনুবাদে মারিও পুজোর গডফাদার এ দেশের পাঠক সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে।
সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস সিরিজ ‘কুয়াশা’ ও ‘মাসুদ রানার’ অনেক বইয়ের নেপথ্য লেখক ছিলেন তিনি। এছাড়া নিজ নামেও তিনি এই ধারার বহু জনপ্রিয় রোমাঞ্চ উপন্যাসের অনুবাদ এবং মৌলিক উপন্যাস রচনা করে পাঠকসমাজে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
বইয়ের লেখক সম্মানি নিয়ে একটা পর্যায়ে সেবা প্রকাশনীর প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে শেখ আবদুল হাকিমের বিরোধ হয়। বিষয়টি অদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেখ আবদুল হাকিম ‘কুয়াশা সিরিজ’ এর ৫০টি বই ও ‘মাসুদ রানা সিরিজ’ এর ২৬০ বইয়ের লেখক দাবি করে কপিরাইট অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন। গত বছর জুনে কপিরাইট অফিস তার দাবির পক্ষে রায় দিয়েছিল। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশকের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়।
