ফাইল সই করতে গেলেই রাজ্যপাল ব্ল্যাকমেইল করেন :মমতা ব্যানার্জি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সম্পর্ক মোটেও সুমধুর নয়। মতবিরোধে প্রায় সবসময়ই সরগরম রাজভবন-নবান্ন। তবে গতকাল শনিবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার অভিযোগ, যে কোনো ফাইলে সই করতে গেলে ‘ব্ল্যাকমেল’ করেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বভারতী   বিশ্ববিদ্যালয়কে বিজেপির আখড়া বানিয়ে ফেলেছেন বলে উপাচার্য বিদ্যুত্ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে তিন শিক্ষার্থীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা শুক্রবার রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়ি ঘেরাও করে আন্দোলন করছে। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, বিশ্বভারতীর বোর্ড মেম্বার সকলেই বিজেপি। শুধু বিশ্বভারতী নয়, বেশির ভাগ জায়গার একই অবস্থা। রাজ্যপাল এ নিয়ে কিছু বলেন না? সব জায়গায় তার লোক থাকতে হবে। না হলে একটা ফাইল সই করাতে গেলেই ব্ল্যাকমেল করেন।

মমতা বলেন, গণতন্ত্র বলে আর কিছু নেই। কেন্দ্রের মোদি সরকার সকলের গণতান্ত্রিক অধিকারও কেড়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে প্রত্যেকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ফের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বারবার পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন জগদীপ ধনকড়। বারবারই তার বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সে অভিযোগ নাকচ করেছেন রাজ্যপাল। 

সস্ত্রীক অভিষেক ব্যানার্জিকে তলব করল ইডি

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জিকে নোটিশ পাঠিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কয়লা দুর্নীতির অভিযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিষেকের সঙ্গে তার স্ত্রী রুজিরা নারুলাকেও ডেকে পাঠিয়েছে এই গোয়েন্দা সংস্থা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে হাজিরার জন্য ডাকা হয়েছে রুজিরাকে। আর অভিষেককে ডেকে পাঠানো হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর। এছাড়া তিন আইপিএস অফিসারকেও তলব করা হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে কয়লাকাণ্ডে অভিষেকের বাসভবনে গিয়ে তার স্ত্রী রুজিরাকে সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। তবে কয়লাকাণ্ডে অভিষেককে এখনো পর্যন্ত সিবিআই বা ইডি?র মুখোমুখি হতে হয়নি। তাই আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সবার নজর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ওপর।

এদিকে এই নোটিশের পর কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, অভিষেকের সঙ্গে পারলে, রাজনৈতিক লড়াই করুন। একটা ইডি দেখালে, আমিও বস্তা ভরে তথ্য দেব। দরকার হলে আমরাও আদালতে যাব। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি আমি আগে দেখিনি। কয়লাকেন্দ্রের বিষয়, রাজ্যের নয়। বিজেপি নেতাদের নিয়ে কেন সিবিআই তদন্তে যাচ্ছে। সব কমিশনকে পলিটিক্যাল বানানো হচ্ছে।