আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সাজা মওকুফের ক্ষমতা সরকারের আছে। ঐ ধারার ছয়টি উপধারার মধ্যে একটিতে বলা হয়েছে, সরকার কোন ব্যক্তির সাজা শর্ত ছাড়া সম্পূর্ণটা মওকুফ করতে পারে অথবা শর্ত ছাড়া কিছুটা মওকুফ করতে পারে। আবার শর্ত সাপেক্ষে পুরোটা মওকুফ করতে পারে কিংবা কিছুটা মওকুফ করতে পারে বা সাসপেন্ড করতে পারে। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রেও আমাদের মতামত দিতে হয়েছে। ওনার (খালেদা জিয়ার) আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে যখন আবেদন করা হলো, তখন তার সাজা স্থগিত করে ওনাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলো। তার মানে, তার পক্ষে যে আবেদনটা ছিল তা নিষ্পত্তি হলো। ওনারা বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। আমরা কিন্তু তার অনুমতি দিইনি। আমরা কিন্তু তাকে দুটি শর্ত দিয়ে মুক্তি দিয়েছি। সেই শর্ত মেনেই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। এখন পরের ধাপে তারা বিদেশে যেতে অনুমতি চায়। কিন্তু কথা হলো, যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হলো, সেটা পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা আইনে (৪০১ ধারা) আমাদের দেওয়া হয়নি।’
আইন সাংবাদিকতা নিয়ে গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত কর্মশালায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) ও এমআরডিআই যৌথভাবে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবহার করে। তাতে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী থেকে অনুমতি নিতে হয়। এটা প্রয়োগ করার আগেই রুল অব বিজনেস অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয় থেকে মতামত নিতে হয়। এমন একটা বিষয় নিয়ে আমার মতামত দিতে হয়েছে।’ উদাহরণ হিসেবে খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওনাদের আবার আবেদন করতে হলে আগের আবেদনটি বাতিল করে ওনাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলখানায় যেতে হবে। এরপর তাকে আবার আবেদন করতে হবে। কারণ এ ধরনের আবেদন তো ইতিমধ্যে একবার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আর নিষ্পত্তিকৃত আবেদন পুনর্বিবেচনার কোনো ক্ষমতা আইনে আমাদের দেওয়া হয়নি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে মিথ্যার বেসাতি করা হয়, সেক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দরকার রয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা বাতিল করে কিন্তু এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এই আইনের অপব্যবহার যাতে না হয়, সেক্ষেত্রে সরকার সব সময় সচেষ্ট।’
তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির উদ্যোগ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সামনে অবকাশের আগেই মামলাটি শুনানির জন্য কোনো ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে পাঠানো হয়।
কর্মশালায় আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু সেই আইন রক্ষা করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ওপর। সুপ্রিম কোর্ট আইনের ব্যাখ্যা দেয়। যদি কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য হয়, তাহলে সেই আইন বাতিলের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে।
হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘মিডিয়ায় পাবলিসিটির জন্যও অনেক সময় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হয়। সেজন্য যে কোনো প্রতিবেদন নজরে আনলেই আমরা তড়িঘড়ি না করে যাচাই-বাছাই করে আদেশ দিয়ে থাকি। একেকটি মিডিয়া রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব নীতি রয়েছে। সেক্ষেত্রে আদালতের নজরে আনা প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সতর্ক হয়েই আদেশ দিতে হয় আমাদের।’
ল রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি সাংবাদিক মাশহুদুল হক। কর্মশালায় ল রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যরা অংশ নেন। পরে তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
