এবার আইএসকের অবস্থানে মার্কিন ড্রোন হামলা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৩

কাবুলে বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্টি আইএস-কে’র অবস্থান লক্ষ্য করে এবার ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বয়ং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে এই হামলার নির্দেশ দেন। এতে হামলার দায় স্বীকার করা ওই জঙ্গি গোষ্টির একজন পরিকল্পনাকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরকে আরো হামলার ঝুঁকির মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে বেশিরভাগ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও নাগরিকদের বেশিরভাগেরই শনিবার কাবুল ত্যাগ করা কথা ছিল।

ড্রোন হামলা : আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের নানগারহার প্রদেশে অবস্থানরত আইএস-কে গ্রুপের একটি ঘাটি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলা চালানোর পর একজন ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।  তারা বলেছে প্রাথমিক তথ্য বলছে, নানগাহারে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে যে ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছিল, তাতে সেখানে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তিনি আইএসকের সক্রিয় সদস্য এবং কাবুলে হামলার পরিকল্পনাকারী।

আইএস-কে দাবি করেছে, তারা কাবুল বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী হামলা চালায় যেখানে ১৭০ জন মানুষ নিহত হয়। এদের মধ্যে ১৩ জন আমেরিকান সেনাও ছিল। তালেবান এ মাসের ১৫ তারিখে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেবার পর থেকে কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে গণ-উদ্ধার তত্পরতা চলছে। ভীড়ের মধ্যে আইএসকে ওই হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে উদ্ধার তত্পরতা সমাপ্তির যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তা শেষ হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই হামলার পেছনে যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে উচিত শিক্ষা দেয়া হবে। হামলাকারিদেগর চরম মূল্য দিতে হবে। আইএস-কে বা খোরাসান প্রদেশের ইসলামিক স্টেট মূলত ইসলামিক স্টেট গ্রুপের একটি দলছুট শাখা। এটি আফগানিস্তানের সব জিহাদি জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং সহিংস।

ফের সতর্কতা : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা হুমকির কারণে ওই এলাকায় ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া যেসব মার্কিন নাগরিক বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি অবস্থান করছেন তাদের অবিলম্বে ওই এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে মার্কিন দূতাবাস।

২৫ পাউন্ডের বোমা : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে গত বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। আত্মঘাতী হামলাকারী কীভাবে বিমানবন্দরের আবে গেটের কাছে গিয়েছিলেন, ঠিক কোন সময়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। খবরে জানা যায়, বিমানবন্দরের আবে গেটে ঢোকার জন্য তখন হুড়োহুড়ি চলছিল। তালেবানের হাত থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান ছাড়তে মরিয়া লোকজনের ভিড় ছিল সেখানে। মার্কিন সেনাবাহিনী ও অন্য নিরাপত্তাকর্মীরা সেই ভিড় সামলানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন পড়ন্ত বিকাল। ঘড়িতে ৫টা বেজে ৪৮ মিনিট। হামলাকারী পোশাকের নিচে ২৫ পাউন্ড ওজনের বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিলেন। তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন আবে গেটে থাকা মার্কিন সেনাদের দিকে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তল্লাশি করার আগ পর্যন্ত হামলাকারী অপেক্ষা করছিলেন। সেনারা তল্লাশি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটান ওই হামলাকারী। আত্মঘাতী হামলায় সাধারণত যে ধরনের বোমা ব্যবহূত হয়, এটি ছিল তার চেয়ে অনেক বড়। বিস্ফোরণ

তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পেন্টাগন : পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার আবে গেটে যে হামলার ঘটনা ঘটে, তা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। তাঁরা ঘটনাগুলো একের পর এক সাজিয়ে তথ্য তুলে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বোঝার চেষ্টা করছেন, সে সময় আসলে ঠিক কী ঘটেছিল। তিনটি প্রশ্ন ভাবাচ্ছে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের। প্রথমত, নিরাপত্তাকর্মীরা এত কাছাকাছি ছিল কেন? দ্বিতীয়ত, বিমানবন্দরের বাইরে থাকা তালেবানের তল্লাশিচৌকিতে বোমা হামলাকারী ধরা পড়লেন না কেন। আর তৃতীয়ত, তালেবানের তল্লাশিচৌকির কেউ হামলাকারীকে কৌশলে ছেড়ে দিয়েছিলেন কি না? সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর ২৫ পাউন্ডের বিস্ফোরক বহনের ঘটনা ছিল অবাক করার মতো। আত্মঘাতী হামলাকারীরা সাধারণত ১০ থেকে ২০ পাউন্ড বিস্ফোরক বহন করে। ২৫ পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরণের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার দিন আবে গেটে যে সেনারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা মাত্র এক সপ্তাহ আগে কাবুলে আসেন।

সবাইকে নিয়ে সরকার: তালেবান খুব শিগগিরই নতুন সরকার গড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩১ আগস্ট মার্কিন সেনাসহ বিদেশীরা আফগানিস্তান ছাড়লে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। গতকাল তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেন, সব জাতিগোষ্টির প্রতিনিধি থাকবে তালেবানের আসন্ন সরকারে। এতে করে জাতিগত দ্বন্দ্ব তৈরী হবে না বলে তাদের প্রত্যাশা।