আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এখনো দেশবিদেশে ষড়যন্ত্রের ছক আঁকা হচ্ছে। যারা সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি সহ্য করতে পারে না, তারাই ষড়যন্ত্রের চোরাগলির মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। বিএনপি দেশবিদেশের বিভিন্ন স্থানে লবিস্ট নিয়োগ ও অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি আরো বলেন, দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কেউ কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের সমর্থন না পেয়ে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে বিএনপি। তিনি বলেন, খুনি ঘাতকদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি।
‘জিয়াউর রহমানের জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে কফিনে জিয়ার লাশ ছিল’ মর্মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এতে কী প্রমাণিত হয়? হাজার হাজার মানুষের জানাজা পড়া এবং কফিনে জিয়াউর রহমানের লাশ থাকা না থাকা, এটা কি এক কথা? মানুষ তো নিহত এক জন প্রেসিডেন্টের জানাজা পড়েছে, কিন্তু কফিনে যে লাশ ছিল তা তো দেখাতে পারেননি। সেই কফিনে যে প্রেসিডেন্ট নেই, এটা তো আর মানুষ জানত না। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হলে ইসলামাবাদে ফয়সাল মসজিদের সামনে জিয়াউর রহমানের জানাজার চেয়ে বেশি মানুষ হয়েছিল। কিন্তু ঐ কফিনে জিয়াউল হক ছিলেন না, আর এই কফিনেও জিয়াউর রহমান ছিলেন না। এটাই সত্য। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জিয়া জড়িত ছিল দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি মেজর ডালিমকে বলেছিলেন, ওয়েল ডান মেজর ডালিম, ইউ হ্যাভ ডান আ গ্রেট জব। লরেন্স লিফশুজ, অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইয়ে এগুলোর বর্ণনা আছে সবিস্তারে। আত্মস্বীকৃত খুনিদের বক্তব্য আছে, প্রতিক্রিয়া আছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে সেকুলারিজম, তা না চাইনিজ না রাশিয়ান। তার মতাদর্শ সম্পূর্ণ আলাদা এক মডেল। এটি বাংলাদেশ এবং বাঙালির মডেল। ধর্মীয় মূল্যবোধ সেটির প্রতিও বঙ্গবন্ধুর শ্রদ্ধা, সেই সঙ্গে অন্য ধর্মমতকে বিকশিত করা এবং সব ধর্মের প্রতি একটি সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি রেখে সেই মূল্যবোধকে বিকাশ ঘটানো। এটি বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব এক মডেল, যা ঐ দুটির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমতুল্লাহ, সহসভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু।
