হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা চেয়ে মামলা করায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন ইরাক প্রবাসী সোহেল রানা ও তার পরিবার। একের পর এক মিথ্যা মামলা ও হত্যার হুমকিতে নিজের এলাকায় প্রবেশ করতে পারছেন না তিনি। পুলিশের কাছে সহায়তা চাইলেও হুন্ডি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে প্রভাবিত হয়ে উলটো সোহেলকেই মিথ্যা দেনাদার বানিয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন যশোর কোতোয়ালি থানাধীন কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ইরাক প্রবাসী ছিলেন তিনি। এর মধ্যে পাশের গ্রামের ইব্রাহিম দুবাই থেকে তাকে ফোন করে। ইব্রাহিম বলে, ইরাকে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের টাকা তার মাধ্যমে দেশে পাঠাতে। এলাকার ছেলে হওয়ায় সোহেল তার কথামতো নিজের ও বাংলাদেশিদের দেশে পাঠানো টাকা ইব্রাহিম ও তার ভাই আজিজুলের মাধ্যমে পাঠাতে থাকেন। কিন্তু কয়েক মাস পর সোহেল বুঝতে পারেন ইব্রাহিম ও আজিজুলের কাছে পাঠানো টাকা আত্মীয়দের হাতে পৌঁছেনি। সোহেল তাদের মাধ্যমে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে তাদের কাছে পাঠানো তারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির পাওনা ১৫ লাখ টাকা ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ঐ চক্রের সদস্যরা। তারা দেশে ফিরে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু দেশে ফেরার পর তাদের ভয়ংকর রূপ বেরিয়ে আসে। তারা টাকা ফেরত না দিয়ে সোহেলকে হুমকি দিতে শুরু করে। সোহেল মামলা করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তুলে নিয়ে জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। একই সঙ্গে সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের এলাকা ছাড়া করে।
সোহেল অভিযোগ করেন, বিপদে আইনি সহায়তার জন্য পুলিশের কাছে গিয়ে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন তারা। থানা পুলিশ, ডিবি, পিবিআই কেউ তাকে সহযোগিতা না করে উলটো ঐ সিন্ডিকেটে প্রভাবিত হয়ে পড়েছে। তারা তার পাওনা টাকা আদায়ের ব্যাপারে সহায়তা না দিয়ে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আপস করতে বলছে। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার পাওনা টাকা ফিরে পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সুদৃষ্টি কামনা করেন।
