করোনার কারণে সর্বশেষ লকডাউনের সময় শহরকেন্দ্রিক বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিক্রি বাড়েনি বরং কমেছে। কিন্তু গ্রামে বিদ্যুত্ বিতরণ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিক্রি আরো বেড়েছে। অর্থাত্ গ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তাই বিদ্যুত্ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রামের প্রতি নজর দিতে হবে।
গতকাল শনিবার ‘বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা: স্থাপিত এবং সরবরাহ সক্ষমতা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্্পা) সহযোগিতায় ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা বিদ্যুত্ আমদানির চেয়ে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুত্ বাণিজ্যে জোর দিতে চাই। এক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো প্রতিবেশী দেশে বিদ্যুত্ বিক্রি এবং ক্রয় করতে পারবে। বিদ্যুত্ সঞ্চালনেও বেসরকারি খাত যুক্ত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ম. তামিম। তিনি বলেন, বর্তমানের ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে গিয়ে বিদ্যুতের দাম বেশি পড়ছে। একই কারণে বাড়ছে সরকারের ভর্তুকিও। বিশ্ব বাজারের দিকে তাকালে বোঝা যায়, আমরা যেসব জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুত্ উত্পাদন করছি তার দাম বেড়েই চলেছে। ফলে একই কারণে বাড়বে বিদ্যুতের দামও। আগামীতেও বাড়তেই থাকবে যদি না আমরা একটি নির্দিষ্ট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জ্বালানি পরিকল্পনা করি। বিদ্যুতের দাম কমতে হলে স্থলভিত্তিক এলএনজি এবং গ্যাস অনুসন্ধানের বিকল্প নেই। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ বাদ দিয়ে ডিজেল দিয়েই করতে হবে। স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুত্ও রাখতে হবে। তবে সে কেন্দ্রগুলো তেলভিত্তিক হতে হবে এবং নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট হতে হবে।
এফইআরবি’র চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকারের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালন করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শামীম জাহাঙ্গীর। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
