ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ হল ও আবাসিক এলাকার মসজিদগুলোতে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম চলছে ১৩ বছর ধরে। ২০০৭ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য আলাদা বিধিমালা করা হলেও তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতি হয়ে আসছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিধিমালা অনুযায়ী। এমন অনিয়মের কারণে গত ১০ বছরেও পদোন্নতি পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর নীলক্ষেত আবাসিক এলাকা মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদ কাসেমি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমাম নিয়োগের জন্য আলাদা বিধিমালা থাকলেও সেই বিধিমালা না মেনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালায় পদোন্নতি দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ইমামের পদোন্নতির ক্ষেত্রে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২০টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদোন্নতির জন্য আলাদা নীতিমালা থাকলেও সেই নীতিমালা গত ১৩ বছর ধরে মানা হচ্ছে না। ২০০৭ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নীতিমালা তৈরির জন্য একটি কমিটি করা হয়। পরে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর ঐ নীতিমালা সিন্ডিকেটের অনুমোদন পায়। অনুমোদন পাওয়ার পরও ক্যাম্পাসে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি প্রদান করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নীতিমালা করলেও ঐ নীতিমালায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় কিছু কম সুবিধা থাকায় পদোন্নতির এই নীতিমালার বিষয়ে চুপ ছিলেন ইমামরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীতিমালায় পদোন্নতি প্রদান করায় অনেকেই ডেপুটি রেজিস্ট্রার কিংবা সহকারী রেজিস্ট্রার পদমর্যাদা ভোগ করেন। কিন্তু তাদের পদোন্নতি ও পদবিন্যাসের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। তা কখনো মানা হয় না।
ইমাম ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা ঘেঁটে দেখা যায়, ইমামরা সর্বোচ্চ পদোন্নতি পেয়ে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেড পান। কিন্তু কর্মকর্তাদের নীতিমালা অনুযায়ী তৃতীয় গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সমিতির রাজনীতিতেও জড়িত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ইমাম/পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সমিতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।’ এমন বিধিনিষেধের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ অন্যান্য সমিতির সদস্য হন তারা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমিতির সদস্য হয়ে আসছেন। কিন্তু সদস্য হওয়া না হওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
নিয়োগেও অনিয়ম
দীর্ঘদিন ইমাম নিয়োগেও হয়ে আসছে অনিয়ম। বিধিমালা অনুযায়ী, দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ ও কোরআনে হাফেজ বিধিমালায় যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা হলেও গত ১৩ বছর তা না মেনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর যোগ্যতা চাওয়া হয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে।
১০ বছর ধরে পদোন্নতি না পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর নীলক্ষেত আবাসিক এলাকার ইমাম হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদ কাসেমী এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ইমামগণ স্বাভাবিকভাবে অবহেলিত। এমন করলে আরো বেশি অবহেলিত হবেন তারা।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ার সিনিয়র ইমাম খতিব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দিন বলেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পদোন্নতির জন্য কোন ধরনের নীতিমালা করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমাদের পদোন্নতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির নিয়ম অনুযায়ী হয়।’
অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে জানালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
