তিস্তা ইস্যুর সমাধানে দ্রুত কাজ করব :সুষমা স্বরাজ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৫২

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শমূলক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের এক আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। একইসঙ্গে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বৈঠক শেষে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সহযোগিতা আরও জোরদারে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১৮০০ সরকারি কর্মকর্তার ভারতে প্রশিক্ষণের বিষয়ে একটি এমওইউ সই হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু ভবনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। অন্যদিকে ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বৈঠকে দুই দেশের সব অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি সমাধান করতে ভারতকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। জবাবে সুষমা স্বরাজ আশ্বাস দেন যে, তারা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সমাধান করতে কাজ করবেন।

বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সুষমা স্বরাজ। তিনি মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ‘বহুমুখী সহযোগিতা’ আরও জোরদার করতে দুই দেশের মধ্যে গতকাল চারটি এমওইউ সই হয়েছে। বাংলাদেশের ১৮০০ সরকারি আমলার প্রশিক্ষণে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্নেন্স (এনসিজিজি), মুসোরি এবং বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছে। এই কর্মসূচিকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভেন্টদের জন্য ‘ট্রেনিং ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ (প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য নির্মাণ) প্রোগ্রাম। আমলাদের মধ্যে যারা কেরিয়ারের মাঝামাঝি পর্বে আছেন তারাই এ প্রশিক্ষণ নেবেন। এ ছাড়া মেডিসিন প্লান্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ভারতের ‘আয়ুস’-এর মধ্যে সহযোগিতা, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর মধ্যে সহযোগিতা এবং বাগেরহাটের মংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক এলাকায় বিনিয়োগের লক্ষ্যে হিরানান্দানি গ্রুপ ও বাংলাদেশের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে এমওইউ সই হয়েছে।

জেসিসি বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ-ভারতের ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে মন্তব্য করেন সুষমা স্বরাজ। তিনি বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়ায় বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে স্বাগত জানান তিনি।

যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বৈঠককালে উভয় পক্ষ ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেসিসি’র সর্বশেষ বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়নসহ চলমান সহযোগিতার বিষয়ে পর্যালোচনা করে। দুই মন্ত্রী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্ব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বর্তমানে এ সম্পর্কের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত গুরুত্ব এবং গণতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতা, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব ও অন্যান্য অনেক বিষয়ে মিল থাকার কথা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিনিয়োগ, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি যৌথ নদীর পানিবণ্টন, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, পরিবহন ও যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে দুই দেশ অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তারা মহাকাশ, পারমাণবিক জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের মতো নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্র বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশীদারিত্বকে অপরিবর্তনীয় করার লক্ষ্যে একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য তারা উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। বিশেষত তারা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিষয়টিকে অংশীদারিত্ব গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।

গত বুধবার চারদিনের সফরে ভারত পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। বৃহস্পতিবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। আজ শনিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের।