মাধব রায়
কথাসাহিত্যিক
সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ,সিলেট
গতকালের পর
তিনি রাহুলকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে দেখতে হয়।
এরপর এলো রাহুলের মা, তিনি তাঁকেও দেখিয়ে দিলেন। এরপর তিনি রিয়া, রিপা, প্রাচী, পিউ, প্রাঞ্জল, অভি এদের সবাইকে একে একে ডেকে এনে সূর্যগ্রহণ দেখিয়ে দিলেন।
প্রাচী বলল, আমরা সবাই তো সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ভয়ে অস্থির। মা বলেছে বাইরে বের হওয়া যাবে না। সবাই ভয় পাচ্ছে।
এখন তো ভয় কেটে গেছে, তাই না?
হ্যাঁ, আমাদের একটু একটু কেটেছে, কিন্তু অনেকের মনে ভয় থেকেই গেছে।
নীলকান্তবাবু বললেন, ঠিকই বলেছ। গ্রহণকে তো ভয় পাবার কিছু নেই। আচ্ছা এখন চলো চা খেতে খেতে গল্প হবে। সবাই ডাইনিং টেবিলের চারদিকে বসল।
চন্দ্রা বলল-মামা, মা বলেছে গ্রহণের সময় কোনও কিছু খেতে নেই বা রান্না করতে নেই। এটা কি ঠিক?
কমলা বললেন, না না এটা কখনও ঠিক নয়। গ্রহণের সময় রান্না করতে নেই বা খেতে নেই এই কথা যারা বলে, তারা না জেনে বলে।
নীলকান্তবাবু বললেন, গ্রহণ সম্পর্কে আরও কত কুসংস্কার আছে।
হ্যাঁ, বললেন কমলা। একবার যখন সীমা পেটে, তখন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। মা বলল কোনও কিছু খেতে পারব না, খেলে সন্তান পেটুক হয়, কোনও কিছু কাটাবাছা করলে, মাছ কাটলে সন্তান ঠোঁট কাটা হয়, নাক কাটা, বা কান কাটা হয়। আমি তো খেয়েছি, আবার বাচ্চার কাঁথা সেলাই এর জন্য কাপড়ও কেটেছি, কই সীমা তো পেটুক হয়নি। ওর ঠোঁট, কান, নাক সবই তো ঠিক আছে।
হ্যাঁ, তাই তো! নীলকান্তবাবু সীমার ঠোঁটে হাত দিলেন, কই কানটা দেখি। সীমা হেসে ফেলল।
কণিকা বলল, আর চন্দ্রগ্রহণের সময় আমি ছিলাম পেটে।
বিন্দু বলল, তুমি কীভাবে বুঝলে?
মা বলেছিল, বলল কণিকা। না মা?
নীলকান্তবাবু বললেন, তোরও তো নাক ঠোঁট, সব ঠিক আছে তাই না?
কণিকা হাসতে লাগল, সবাই হাসল।
কমলা বললেন-আরও কত কিছু বলে মানুষ, গাছের ডাল ভাঙলে বা বাঁকালে নাকি সন্তানের হাত পা বাঁকা হয়ে যায়।
এগুলো বাজে কথা। বললেন নীলকান্তবাবু। কেউ কেউ বলে গ্রহণের পর স্নান করতে হবে। এটিরও কোনও ভিত্তি নেই। সাধারণ অবস্থায় সূর্যের রশ্মি সরাসরি গায়ে লাগলে যেমন, গ্রহণের সময়ও এর চেয়ে আলাদা কোনও রশ্মির অস্তিত্ব নেই। এককালে মানুষ ভাবত সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হলে খুব শিগগিরই কোনও মহামারী অথবা দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। কেউ কেউ ভাবত পৃথিবীতে কোনও মহাপুরুষের জন্ম হবে অথবা বিশেষ কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হবে। এরও কোনও ভিত্তি নেই, পুরোটাই অবৈজ্ঞানিক।
গ্রহণের সময় গয়না পরাও নিষেধ, বলেছিল কেউ কেউ, বললেন কমলা। কিন্তু আমি তো ঠিকই এই দুলটা পরে আসলাম এখন, স্নান করার সময় খুলে রেখেছিলাম।
পরের অংশ আগামীকাল
