মার্কেট টার্গেটিং বিষয়টি মার্কেটিংয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনাকে কেউ তার গাড়ির চাবিটি দিয়ে বলল ‘যাও’; কিন্তু কোথায় যাবেন বলে দেওয়া হয়নি। তাহলে আপনি সারা দিন গাড়িটি শুধু চালাতেই থাকবেন, কারণ আপনার গন্তব্য জানা নেই; কিন্তু আপনাকে যদি গাড়ির মালিক আপনার গন্তব্য ঠিক করে দিত তাহলে খুব সহজেই সঠিক সময়ে আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন। মার্কেটিংয়ে টার্গেটিং বিষয়টাও ঠিক একই রকম। টার্গেটিং হলো বড় মার্কেটকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে একটি নির্দিষ্ট অংশের ওপর ফোকাস করা। ঐ অংশের কাস্টমারকে কেন্দ্র করে সব মার্কেটিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি শ্যাম্পু উত্পাদন করেন আর আপনার বন্ধু ছেলেদের উইগ উত্পাদন করে। এখন দুই জনের মার্কেট টার্গেটিং কী একই হবে? অবশ্যই না। আপনার টার্গেট হবে যাদের মাথায় চুল আছে। আর আপনার বন্ধুর টার্গেট হবে যাদের মাথায় চুল নাই। যেসব পুরুষের মাথায় চুল আছে অবশ্যই তাদের উইগের প্রয়োজন নেই। নাইকি (Nike) হলো মার্কেট টার্গেটিংয়ের উত্কৃষ্ট উদাহরণ। নাইকি সাধারণত যারা এথলেটস, জিমন্যাস্টস এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের টার্গেট করে থাকে। নাইকি সাধারণ কোনো শার্ট বা পায়ে পরার জুতা তৈরি করে না। তারা ট্র্যাকস্যুটস, জার্সি, প্যান্ট, স্নিকারস, কেডস এবং বেশ কিছু এক্সেসরিজ ও ইকুইপমেন্ট তৈরি করে যেগুলো খেলাধুলা বা শরীচর্চার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট—এসব জায়গায় গেলে আমরা দেখব খাবারের দোকানগুলো মোটামুটি মানের এবং দামেও খুব কম। সচরাচর ঐসব জায়গায় উন্নতমানের হোটেল চোখে পড়ে না। কারণ তাদের টার্গেটই হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের অল্পদামে ভোজের ব্যবস্থা করা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীকে টার্গেট করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে অনেক ফটোকপি, লাইব্রেরি গড়ে ওঠে। ঘুরতে আসা পর্যটককে টার্গেট করে পর্যটন এলাকায় গড়ে ওঠে হোটেল, মোটেলসহ নানা বিনোদনকেন্দ্র। তাই যাদেরকে টার্গেট করে ব্যবসা করবেন তাদের চাহিদা কী, তাদের সমস্যা কী এবং কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে।
বর্তমানে করোনাকালীন সময়ে ফুড ডেলিভারি কোম্পানি ফুড পান্ডা, পাঠাও ইত্যাদি ভোজনরসিক মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারণ করোনায় রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া-দাওয়াতে ঝুঁকি থেকেই যায়। যদি খুব অল্প টাকায় গরম খাবার নিজের বাসায় চলে আসে তাহলে তো আর কথাই নেই। আজকাল মানুষ খুব স্বাস্থ্য সচেতন। রোগ দিনদিন যত বাড়ছে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এসেছে পরিবর্তন। এখন সার কীটনাশক ব্যবহারে ফলিত খাদ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সবাই বুঝতে পেরেছে। তাই এখন সবাই ঝুঁকছে অর্গানিক ফুডের দিকে। আর এই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক অনলাইন অর্গানিক ফুড শপ। যেখানে পাওয়া যায় ফ্রেশ প্রাকৃতিকভাবে উত্পাদিত ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস ইত্যাদি। দামে বেশি হলেও ক্রেতারা কিনছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। এয়ারটেল মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর কোম্পানির দিকে তাকালে আমরা দেখব, তারা সব সময় বিজ্ঞাপনে তারুণ্যকে বেশি প্রেজেন্ট করে, কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ ইন্টারনেট ইউজার তরুণ।
টার্গেটিং মার্কেটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কেট টার্গেটিং ছাড়া ব্যবসা তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। আপনি যতই ঝুড়িতে জিনিস নেন ঝুড়ি ভরবে না, ঠিক তেমনি মার্কেট টার্গেটিং ছাড়া যতই ভালো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হোক ব্যবসায় লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়। টার্গেটিংয়ের ফলে কোম্পানি সঠিক কাস্টমারের ওপর ফোকাস করতে পারে যার ফলে ব্যবসায়ের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। দেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষ আছে, তার মধ্যে সবাই আপনার কাস্টমার নয়, এখন যদি আপনি এই ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন তবে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। যদি আপনি কাস্টমারের একটি অংশ যারা আপনার কাস্টমার বা সম্ভাব্য কাস্টমার তাদের কেন্দ্র করে কাজ করেন তবে কাস্টমার স্যাটিসফেকশন অর্জন খুব সহজ হবে। তাই ব্যবসায়িক সফলতা অর্জনে সঠিক মার্কেট টার্গেটিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
n লেখক :শিক্ষার্থী, মার্কেটিং বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
