স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
পূর্ব বগুড়ার বাসিন্দাদের কাছে শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত ফতেহ আলী সেতুটি প্রায় চার বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। হালকা যান চললেও ভারী যান চলাচল ঠেকাতে সেতুটির দুই পাশে দেওয়া হয়েছে সিমেন্টের খুঁটি। এতে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। পণ্য আনা-নেওয়ায় ভারী যানগুলোকে প্রায় আট কিলোমিটার ঘুরে শহরে আসতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটিতে যাতায়াতে ১০ লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বগুড়া শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। তার ওপর ফতেহ আলী ব্রিজ। এই ব্রিজ পার হয়েই মূল শহর। সেতুটি পূর্বাংশের চেলাপাড়া, নারুলী, সাবগ্রাম আকাশতারার বিশাল এলাকাকে নগরীতে সংযুক্ত করেছে। একই সঙ্গে পূর্ব বগুড়ার গাবতলী, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট (আংশিক) উপজেলার প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দা এ পথে শহরে যাতায়াত করেন।
বগুড়ার মাছের মূল আড়ত ফতেহ আলী সেতুর পূর্বপাশের চাষি বাজারে। প্রতিদিন এ আড়তে অর্ধশত ট্রাক-মিনি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানে মাছ বিক্রি করতে আসেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মাছের গাড়িগুলো ফতেহ আলী ব্রিজ হয়ে চাষি বাজারে যায়। ব্রিজটিতে ভারী যান চলাচলে বন্ধ থাকায় তাদের অন্য পথে বাজারে যেতে হচ্ছে। আবার যানজটেও পড়তে হচ্ছে।
চাষি বাজারের ফেলুরাম মত্স্য আড়তের ব্যবসায়ী রঞ্জন কুমার বলেন, ব্রিজ বন্ধ থাকায় আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শহরের রাজা বাজারের আড়তদার ও ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, প্রায় চার বছর ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।
বগুড়া সওজের তথ্যানুযায়ী, ১৯৬২ সালে করতোয়া নদীর ওপর ৭১ মিটার দৈর্ঘ্যের ফতেহ আলী ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী এই ব্রিজসহ রেলব্রিজ যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলে ধ্বংস করে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত রেল ও সড়ক ব্রিজটি সংস্কার করা হয়। প্রায় ৬০ বছরের পুরনো ব্রিজটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ফতেহ আলী বাজার এলাকায় ব্রিজটির পাটাতন ও গার্ডারের কিছু অংশ দুই বছর আগে সংস্কার করা হয়। সওজ আরো জানায়, সংস্কারের পর ব্রিজটি দিয়ে ভারী যান চলাচল সম্ভব কি না, তা জানাতে সংস্থাটির কয়েক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্রিজ বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করেন। তারা ব্রিজটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে হালকা যান চলার অনুমতি দেন। সেই নির্দেশনা লঙ্ঘন করেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়ে ভারী যান চলছিল। বাধ্য হয়ে প্রায় দুই বছর আগে সেতুর দুই পাশের মাঝামাঝিতে সিমেন্টের পিলার দেওয়া হয়।
বগুড়া সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সেতুটি পুনর্নিমাণ করা হবে। এ জন্য আমাদের নতুন করে নকশা তৈরি করতে হবে। এখন ব্রিজ তৈরি করতে বিআইডব্লিউএ থেকে ভার্টিকাল ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। তাদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর ভিত্তিতে আমরা ব্রিজের উচ্চতা পেয়ে গেছি। এখন নকশা তৈরির কাজ চলছে। নকশা হয়ে গেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে তার দাবি, নদীর তলদেশে দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। এ জন্য ব্রিজের ভার্টিকাল ক্লিয়ারেন্সে একটু বেশি সময় লেগেছে।
