মনজুর কাদের
স্পোর্টস রিপোর্টার
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে জাগিয়ে তুলেছিলেন ক্রীড়া সংগঠক মনজুর কাদের। তারপর আবার নিজেই ফুটবল থেকে নির্বাসনে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফুটবলের টানে দূরে থাকা তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। ফুটবলের প্রদীপ নিভু নিভু করছিল। তখন হঠাত্ করেই বাফুফে সভাপতির দায়িত্ব নিলেন কাজী সালাহউদ্দিন। তার আমলটা কেটে গেল পাঁচ বছরে। এরই মধ্যে আবার অভিমান ভেঙে ফুটবলে এলেন বাল্যবন্ধু বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ জামালের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি ক্লাবটাকে টেনে তুললেন। আবার ফুটবলের জোয়ালটা কাঁধে তুলে নিলেন। মনজুর কাদের এবার ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব নিয়ে। ২০০৯ সালে, ২৮ এপ্রিল শেখ জামালের জন্ম দিন। সেই দিনক্ষণে ফুটবলে নতুন যাত্রা শুরু করলেন। ফুটবল ক্রিকেট সবকিছু মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২৩টি ট্রফি ঘরে তুলেছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। চ্যাম্পিয়ন দল বানাতে গিয়ে শুরু থেকেই পকেট থেকেই খরচা করেছিলেন বিশাল অঙ্কের অর্থ। কথায় কথায় বলছিলেন, ৩৭ কোটি টাকা খরচা করে আর পেরে উঠছিলেন না। দেশে এবং দেশের বাইরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কলকাতার ফুটবলে আইএফএ শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও শেখ জামালের খেলা দর্শক হূদয় জয় করেছে।
এবার প্রিমিয়ার লিগে রানার্সআপ হয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। অনেক দিন পর আবার ট্রফি ঘরে তুলেছে। তাই খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখতে গতকাল দুপুরে গুলশানের অফিসে ঘরোয়াভাবে সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন ক্লাবের গভর্নিংবড়ির চেয়ারম্যান মনজুর কাদের। বোনাস দিয়েছেন। কেক কেটে উদ্যাপন করেন। খেলোয়ায়াড়দের প্রশংসায় ভাসান।
মনজুর কাদের বক্তব্য দিতে গিয়ে হাজারো স্মৃতির কথা তুলে আনলেন। বললেন, ‘ধানমন্ডির এই মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতেন বঙ্গবন্ধু। ধানমন্ডি পাড়ার মুরব্বি ছিলেন তিনি। আমাদের বড় ভাইরা বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে এই ক্লাব গঠন করেছিল। চিফ পেট্রন ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই মাঠেই শেখ জামাল, শেখ কামালরা খেলেছেন। শেখ জামাল ছিল আমার মার্বেল ফ্রেন্ড। কামাল ভাইয়ের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। শহিদ মিনারে গিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লোগান দিয়েছি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই ক্লাবে যারা জড়িত ছিলেন তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরার শাহআলম ভাইকে, শওকত আজীজ রাসেলকে। রাসেল আমার সঙ্গে অনেক কষ্ট করেছে।’ দুঃখ করে মনজুর কাদের বলছিলেন, ‘শেখ জামালের নামে দল। কারো গ্যাটিস হয়ে থাকুক এটা আমার ভালো লাগে না। কারণ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ফুটবলে নতুন প্রাণ দিয়েছে।’ এএফসি কাপে খেলার কথা রয়েছে লিগ রানার্সআপ শেখ জামাল ধানমন্ডির। কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে তবে চূড়ান্ত অনুমোদন আসবে এএফসি থেকে।
