স্পট ফিক্সিংয়ে আরামবাগকে বহিষ্কার

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ২১:২১

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

দেশের ফুটবলে এত কঠিন শাস্তি পাওয়ার ঘটনা আর আছে কি না, পাওয়া গেল না। এক সঙ্গে ক্লাব, খেলোয়াড় কোচিং স্টাফ বহিষ্কার হয়েছে। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে এমন ঘটনা ঘটেছে। স্পট ফিকিক্সংয়ের দায়ে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ এবং তাদের খেলোয়াড়দের। প্রিমিয়ার লিগ থেকে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ রেলিগেশন হয়ে গেছে আগেই। আর স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত আরামবাগকে গতকাল নামিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রথম বিভাগ ফুটবলে। রেলিগেশন হওয়ার কারণে আরামবাগ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলার কথা। কিন্তু শাস্তি পাওয়ার কারণে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলতে পারবে না। প্রথম বিভাগ ফুটবলে খেলতে হবে দুই বছর। যদি তারা চ্যাম্পিয়নও হয়ে যায় তার পরও ওপরে উঠতে পারবে না। আর যদি প্রথম বিভাগ থেকে রেলিগেশন হয় তালে সেটি কার্যকর হবে—এমন কথা জানিয়েছে বাফুফে।  শুধু তাই নয়, এই ক্লাবকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জরিমানার টাকা এক মাসের মধ্যে বাফুফের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আরামবাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে—তাদের খেলোয়াড়রা স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়েছিলন। এর সঙ্গে ক্লাব জড়িত, কোচিং স্টাফ জড়িত। স্পট ফিক্সিংয়ের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এএফসি জানিয়ে বলেছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ স্পট ফিক্সিং করছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্দেশ পেয়ে বাফুফে বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং এর সত্যতা পেয়ে শাস্তি দিয়েছে।

বাফুফে জানিয়েছে আরামবাগের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান এম স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী মিনহাজুল ইসলাম ইসলামের  দিকে। তিনি এই ক্লাব সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে স্পট ফিক্সিংয়ে নামিয়েছে খেলোয়াড়দের। মিনহাজুলকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। পাতানো খেলার কারণে শাস্তি হয়েছিল আগে। রেফারি দলিল খানকে মেরে ছিলেন বলে স্ট্রাইকার এনায়েত বড় শাস্তি পেয়েছিলেন। লিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করায় মোহামেডানের অধিনায়ক রণজিত এবং আবাহনীর অধিনায়ক শেখ মো. আসলামকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। বাংলাদেশে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে কোনো ক্লাব এবং কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় এই প্রথম শাস্তি পেল।

সাবেক তারকা ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু খুব কষ্ট পেয়েছেন আরামবাগের এই শাস্তি শুনে। তিনি বলেন, ‘আমি এই ক্লাবের কোচ ছিলাম ’৮৭ সালে। তাই খারাপ লাগছে। আর এখন সেই ক্লাবটি জঘন্য অপরাধে জড়িয়েছে। ভাগ্য ভালো এটা দ্রুত ধরা পড়েছে। তা না হলে দেশের ফুটবলের আরো বড় সর্বনাশ হয়ে যেত। এটা যদি অন্যান্য ক্লাবের মধ্যে সংক্রমিত হতো তাহলে অন্যান্য ক্লাবও জড়িয়ে পড়ত এখানে।’ শাস্তি প্রসঙ্গে মোহামেডানের এই সাবেক ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু বললেন, ‘শাস্তি ঠিকই আছে। বসুন্ধরা থেকে মিহনাজকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সে কীভাবে আরামবাগে ঢুকল ? আজীবন শাস্তি কেন? তাকে তো জেলে দেওয়া উচিত ছিল। এই ছেলে ক্রিমিনাল অফেন্স করেছে।’

ভারতীয় কোচিং স্টাফরা আরামবাগের স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদেরও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অথত ভারতীয়দের আনা হয়েছিল দলের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য। টিপু রেগে গিয়ে বললেন, ‘যাদেরকে আনা হয়েছে তারা এত ফুটবল জ্ঞানী যে এই দেশে এর চেয়ে জ্ঞানী কোচিং স্টাফ ছিল না ? আসলে হয়েছে কি, এখন উচ্চবিত্তের ঘরের সন্তানরা ফুটবল খেলতে আসেন না। আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। এদের মধ্যে ভালো খারাপ আছে, কিছু খারাপ ছেলেরা অল্প কিছু টাকা পেলে নিয়ে নেয়। আর বিদেশি যেসব ফুটবলার আসেন তাদের মধ্যে কিছু দেশ আছে যাদের অনেকে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এটা ভালো লক্ষণ না। ’

আজীবন নিষিদ্ধ যারা

মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ, দলের ম্যনেজার গওহর জাহাঙ্গীর রুশো, সহকারী ম্যানেজার আরিফ হোসেন, ট্রেইনার ভারতীয় নাগরিক মাইদুল ইসলাম শেখ আজীবন নিষিদ্ধ।

n         দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ যারা

                আরামবাগের ফুটবল দলের ফিজিও ভারতীয় নাগরিক সঞ্জয় বোস, গেম এনালিস্ট এবং প্লেয়ার এজেন্ট ভারতীয় নাগরিক আজিজুল শেখ ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ।

n      পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ

                গোলকিপার আপেল মাহমুদকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ। এই ফুটবলার আরামবাগ ছেড়ে ভিক্টোরিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন     

n      তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ

                গোলকিপার  আবুল কাশেম, ডিফেন্ডার আল আমিন, ডিফেন্ডার রকি, ডিফেন্ডার জাহিদ হোসেন, ডিফেন্ডার কাজী রাহাদ মিয়া, ডিফেন্ডার মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত, ডিফেন্ডার শামীম রেজা, অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার ডিফেন্ডার স্মিথ ব্রাডি ক্রিশ্চিয়ান তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ।

n      দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ

                নাইজেরিয়ান ফুটবলার চিজোবা ক্রিস্টোফার লিকওবে, মিডফিল্ডার ওমর ফারুক, মিডফিল্ডার রাকিবুল ইসলাম, ফরোয়ার্ড মেহেদী হাসান ফাহাদ, ফরোয়ার্ড মিরাজ মোল্লা দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ।