করোনায় মৃত্যু ২৬ হাজার ছাড়াল

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ২৩:১৯

এক দিনে ৮৯ জনের মৃত্যুতে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের মোট সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেল। গত ২০ আগস্ট দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ২৫ হাজারের দুঃখজনক মাইলফলক পেরিয়ে গিয়েছিল। ৯ দিনে মৃতের তালিকায় যুক্ত হলো আরো ১ হাজার নাম। তবে সংক্রমণ কমার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার গতিও কিছুটা কমে এসেছে। মৃতের মোট সংখ্যা ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজারে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল পাঁচ দিন, তার আগে ২৩ থেকে ২৪ হাজার হতেও একই রকম সময় লেগেছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৯২১টি নমুনা পরীক্ষা করে দেশে ৩ হাজার ৯৪৮ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩৭ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হলো; আর আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হলো মোট ২৬ হাজার ১৫ জনের।

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার কমেছে; কিন্তু তারপরও বিষয়টি স্বস্তির নয় বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন এ কথা বলেন। তিনি গত সপ্তাহের সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিষয়টির সঙ্গে আগের সপ্তাহের তুলনামূলক বিশ্লেষণের কথা জানিয়ে বলেন, আমরা অনেকগুলো সংখ্যাতত্ত্ব দেখিয়েছি, তাতে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু কমেছে; কিন্তু এরপরও সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বস্তির নয়। কারণ এখনো সংক্রমণের হার নিচে  আসেনি, সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, করোনা আনপ্রেডিকটেবল ভাইরাস। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও জটিলতা রয়ে গেছে। আপাতত মৃত্যু-সংক্রমণ কমেছে বলে খুশির কোনো সুযোগ নেই। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৪১ জন ছিলেন পুরুষ এবং ৪৮ জন নারী। এ নিয়ে ষষ্ঠ বারের মতো দৈনিক মৃত্যুতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হলো। মহামারির দেড় বছরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে যত পুরুষ মারা গেছে, নারী মারা গেছে তার অর্ধেকেরও কম; কিন্তু ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের পর আগস্ট মাসেই নারীর মৃত্যু হার বেড়ে গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে ৬ হাজার ৪৬৬ জন সুস্থ হয়েছেন জানিয়ে অধিদপ্তর জানায়, দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হলেন মোট ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৪ শতাংশ।