কাবুলে মার্কিন সামরিক হামলা বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ০০:৫৭

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাবুল বিমানবন্দরে ইসলামিক স্টেটের সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তারা বলেছেন, তারা নিশ্চিত যে হামলা সফল হয়েছে। এর ফলে আইএসকের আরেকটি ভয়াবহ হামলা ঠেকানো গেছে। তবে হামলায় বেসামরিক কেউ মারা গেছে কিনা তা তাদের জানা নেই বলে বলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এদিকে কাবুলের পুলিশ জানিয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরের কাছে একটি বাড়িতে রকেট হামলায় একটি শিশু মারা গেছে। খবর বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার

কাবুলে মার্কিন হামলা, বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে সতর্ক করে দিয়েছিল, কাবুল বিমানবন্দরে আরেকটি সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আমরা নিশ্চিত হয়েই হামলাটি করেছি। ড্রোন থেকে মিসাইল হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলেভান জানিয়েছেন, কাবুলে আরো হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি বলেন, তাই বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফগানিস্তানে আরেকটি নতুন যুদ্ধ চান না। এজন্য প্রেসিডেন্ট কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলছেন যে, আইএসকের কতটুকু সামর্থ্য আছে এবং তারা কীভাবে হামলা চালাতে পারে সেটা জানার জন্য। গতকাল বিভিন্ন সূত্রের খবরে বলা হয়, কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিরাট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কোন কোন সূত্র এটিকে একটি রকেট হামলা বলে বর্ণনা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেখান থেকে ধোঁয়া উড়ছে আকাশে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে কিভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা পরিস্কার নয়। বিমানবন্দরের কাছে শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে মার্কিন হামলার কোনও সম্পর্ক আছে কিনা সেটা পরিস্কার নয়।

ব্রিটেনের কাবুল ত্যাগ, শেষ ধাপে যুক্তরাষ্ট্র

কাবুলে এখন আর খুব বেশি বিদেশি সাংবাদিক নেই। তবে আল-জাজিরার একজন সাংবাদিক সেখান থেকে তার এক রিপোর্টে বলেছেন, রবিবার সকালে তিনি কাবুল বিমানবন্দরে একটি মার্কিন বিমানও দেখেননি। ন্যাটোর অন্যসব দেশ এরই মধ্যে তাদের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে চলে এসেছে। সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের উদ্ধার ফ্লাইটগুলো শনিবার কাবুল ছেড়েছে। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতও আফগানিস্তান ছেড়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাবে, অর্থাত্ কাল ৩১ আগস্টের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে, সেই পর্যন্ত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলছে, এই অভিযান কখন শেষ হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি, তবে এখনো এক হাজারের মতো বেসামরিক নাগরিক বিমানবন্দরে আছে সেখান থেকে ফ্লাইট ধরার আশায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন জানিয়েছেন, ৩০০-এর মতো মার্কিন নাগরিক এখনো আফগানিস্তানে রয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সবাইকে আফগানিস্তান থেকে দেশে নিয়ে আসা হবে বলে তিনি জানান। দুই সপ্তাহ আগে থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার পর ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে তালেবান বলছে, ৩১ আগস্টের পর বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তুরস্কও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিতে রাজি বলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানিয়েছেন।

নিহত সেনাদের মরদেহ গ্রহণ বাইডেনের

কাবুল বিমানবন্দরে সম্প্রতি নিহত ১৩ জন আমেরিকান সেনার পরিবার পরিজনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বাইডেন একান্ত সাক্ষাত্ করেছেন ও নিহতদের মরদেহ আফগানিস্তান থেকে আনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটি স্পর্শ করলে সম্মান প্রদর্শন করেন। মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে ডোভার বিমান ঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তার স্ত্রী ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন বিমান ঘাঁটিতে আসেন ও বিদেশে যুদ্ধে নিহত আমেরিকান সেনাদের প্রতি স্যালুট দিয়ে সম্মান জানান।

নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি

আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহনের ভিত্তিতে যে সরকার গঠনের কথা তালেবান দিয়েছিল, সেই আলোচনা কোন পর্যায়ে আছে, সে সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। দুই সপ্তাহ আগে তালেবান কাবুলে ঢুকলেও এখনো দেশটিতে কার্যত কোনও সরকার নেই। তালেবানের একজন মুখপাত্র টেলিভিশনে ভাষণে বলেছেন, তারা যে সরকার গঠনের আলোচনা চালাচ্ছেন, সেটা সবাইকে নিয়েই করা হবে এবং শিগগিরই আলোচনা একটা উপসংহারে পৌছাবে। তবে গতকাল তালেবান উচ্চশিক্ষা বিষয়ক একজন অস্থায়ী মন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগেও এরকম কিছু মন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তালেবান আফগানিস্তানের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক খোলারও নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বলেছে, লোকজন সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুশত ডলার পর্যন্ত ব্যাংক থেকে তুলতে পারবে।