সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ব্যবহার করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পক্ষে বিবৃতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এছাড়া সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পালটাপালটি স্লোগান দেন, বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এমন কর্মসূচিতে সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে কিছুটা হলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল রবিবার দুপুরে এমন ঘটনা ঘটে।
সমিতির প্যাড ব্যবহার করে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিবৃতি দেয় সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ঐ বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান একটি মীমাংসিত সত্য। তার মতো এমন একজন বীর সেনানী এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক সম্পর্কে চরিত্রে কালিমা লেপনের যে অপচেষ্টা অতিসম্প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক এবং ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যের বিকৃতি। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাই।
এই বিবৃতির পরই আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে থাকা আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানান। তার জবাব দেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরাও। পরে তারা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি আওয়ামীপন্থি আইনজীবী মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ বলেন, ‘ঐ বিবৃতিটি একান্ত উনার ব্যক্তিগত বক্তব্য যা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নয়। আইনজীবী সমিতির প্যাড ও স্মারক তাদের হীন দলীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বারের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি লঙ্ঘনের মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন তিনি।’
সমিতির সম্পাদক বিএনপি আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহিদ জিয়ার অবদান চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রে জনগুরুত্বপূর্ণ যে কোনো বিষয়ে আলোচনা করার, মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা আমাদের রয়েছে। শহিদ জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এটা তো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমিতির প্যাড ব্যবহার করে বক্তব্য রাখবে এটাই তো স্বাভাবিক।’
পরে সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ইতিপূর্বে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বক্তৃতা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এতে সুপ্রিম কোর্ট বারে একসঙ্গে কাজ করার যে ঐতিহ্য সেটা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
