নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ১৮:৫৮

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

হাইমচর মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা,সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১সালের ১০ই এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার’গঠন করা হয়

 

 

 

 

 

 

১। ইমরানের বাবা স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ছিলেন। তাঁর গানশুনে সাধারণ মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। অন্যদিকে তার মা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন। মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করতেন।

 

ক) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কী নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ?                                                                                                                                                                                      খ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুজিবনগর সরকার কেন গঠন করা হয়েছিল ?                                                                                               গ) ইমরানের বাবা যে মাধ্যমে কাজ করতেন , মুক্তিযুদ্ধে উক্ত মাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।                                                                                                          ঘ) স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে ইমরানের মায়ের মতো অনেক নারীর ভূমিকা ছিল তাত্পর্যপূর্ণ। তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে যুক্তি উপস্থাপন কর।

ক) উত্তর ঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

খ) উত্তর ঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা,সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১সালের ১০ই এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার’গঠন করা হয়। ঐদিনই আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার আদেশ। মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

গ) উত্তর ঃ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কেউ অস্ত্র কাঁধে নিয়ে যুদ্ধ করেছে, আবার কেউ লেখালেখির মাধ্যমে যুদ্ধ করেছেন, কেউ বা আবার গানের মাধ্যমে যুদ্ধ করেছেন। তেমনি উদ্দীপকের ইমরানের বাবা গণমাধ্যম হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সংগীত পরিবেশন করতেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত মাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, চরমপত্রপাঠ, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণীত করে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করেছে।

ঘ) উত্তর ঃ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ইমরানের মায়ের মতো নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সংগ্রাম পরিষদ গঠিতহয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক প্রতিকূল অবস্থা সত্তেও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ আমাদের দেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অস্ত্রচালনা, গেরিলাযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। অপরদিকে,সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রূষা,মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এদেশে অগনিত নারী মুক্তিসেনা। পাকি সেনা কর্তৃক ধর্ষিত হয় প্রায় তিন লক্ষ নারী। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার তাদেরকে ‘ বীরঙ্গণা ’ উপাধি দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ সম্ভব, দেশের প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসা থাকলে আর আমরা সেটি দেখিছি নারী মুক্তিসেনাদের মধ্যেও। যারা নিজের জীবকে বাজি রেখেছেন দেশের জন্য। উদ্দীপকে দেখতে পাই, ইমরানের মা মুক্তিযোদ্ধারের ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন। মাঝেমাঝে সেখানে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দেশেরঅসংখ্য নারীদের একজন প্রতিনিধি।