নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মত্স্য সপ্তাহেও নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটি (বেড়া) দিয়ে অসাধু শিকারি চক্র দেশীয় মাছ শিকার করে চলেছে। আইনে নিষিদ্ধ থাকার পরও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাঘাটা ও পলক নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের খাঁটি দিয়ে চলছে মাছ শিকার। ফলে নদীতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও পানি প্রবাহ মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদী দুটির কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার এলাকায় একাধিক বাঁশের খাঁটি বসানো হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কমলগঞ্জে উজানের ভারতীয় সীমান্তে আদমপুরে পাহাড়ি এলাকা থেকে লাঘাটা নদীর উত্পত্তি হয়েছে। নদীটি উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর ও পতনউষার ইউনিয়নের হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাজনগর উপজেলায় মনু নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই নদী হাওর, বিল, জলাশয়ে দেশীয় মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি ও সেচের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করেছে। নদীটি ঝোপ-জঙ্গলে ও পলিবালি জমে ভরাট হওয়ায় এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরে পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়। খনন কাজ শেষ হতে না হতেই একটি অসাধু মাছ শিকারি চক্র নদীর শ্রীরামপুর ও গোপীনগর এলাকায় বাঁশের খাঁটি স্থাপন করেছে। লাঘাটা নদীর পতনউষার ইউনিয়নের শ্রীরামপুর ও গোপীনগর এলাকায় দুটি বাঁশের খাঁটি এবং পলক নদীতেও কয়েকটি বাঁশের খাঁটি বসানো হয়েছে। ফলে পানিপ্রবাহ ও মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাঁটিতে পুতে রাখা খাঁচায় আটকে মাছ, ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়াসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। চলতি মত্স্য সপ্তাহেও অবৈধ বাঁশের খাঁটি দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় শিক্ষক ফেরদৌস খানসহ এলাকার বাসিন্দারা জানান, ছোট্ট পলক নদীতে প্রতি বছর একাধিক বাঁশের খাঁটি বসানো হয়। এতে পানি নিষ্কাশন, মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্থানীয়ভাবেও অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। অবৈধভাবে বাঁশের খাঁটি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এটি রোধ করা সম্ভব হবে না। কৃষক আক্তার মিয়া, সমাজকর্মী তোয়াবুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগেও লাঘাটা নদী ও কেওলার হাওরে প্রচুর দেশীয় মাছের উপস্থিতি দেখা যেত। এখন মাছের দেখা পাওয়া যায় না। যারা বাঁশের খাঁটি স্থাপন করে মাছ শিকার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাদের মতে, বাঁশের খাঁটি দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে চলতি মৌসুমে মনু নদীর মাছে লাঘাটা নদী ভরে যেত। এভাবে স্থানে স্থানে বাঁশের খাঁটি দেওয়ার কারণে মাছ উজানে উঠতে পারছে না। কমলগঞ্জের হাওর ও নদীরক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান তবারক বলেন, অবৈধ পন্থায় মাছ শিকারের কারণে প্রতি বছর প্রাকৃতিক মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, লাঘাটা ও পলক নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটি দেওয়ার কথা শুনেছি। সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে বাঁশের খাঁটি অপসারণ করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
