ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনাকালে মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাবাদের আরো তত্পর হতে হবে বলে জানিয়েছেন সংম্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দেশে মাতৃস্বাস্থ্যের ব্যবস্থা এমনিতেই নাজুক। কোভিড-১৯ মহামারিতে তা আরো গভীর করে তুলেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে গর্ভধারণকারী মায়েদের। গতকাল বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষ্যে ‘করোনাকালে মাতৃস্বাস্থ্য এবং বাবার দায়িত্ব’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এ সব কথা বলেন। ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল) এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ বলেন, করোনা ও লকডাউনের কারণে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে মাতৃস্বাস্থ্য সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তি যেমন বাবারা কর্মহীন হওয়ায় তারা সন্তান ও মায়েদের যথাযথ যত্ন নিতে পারছেন না। মাতৃস্বাস্থ্যের গুরুত্বের বিষয়টি এই সময়ে আরো বেশি করে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাবাদের উচিত মাতৃত্বকালীন সময়ে সন্তানের মায়েদের প্রতি বেশি যত্নবান হওয়া ও মায়েদের কাজগুলো ভাগ করে নেওয়া। একই সঙ্গে মা ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও বাবাকে ভাবতে হবে। কেননা, আজকের শিশুই আগামীর প্রজন্ম। কোভিড-১৯ সময়ে এ বিষয়টিও নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রথমবার গর্ভধারণ করা অধিকাংশ মা-ই কিশোরী। মা হতে গিয়ে তাদের যে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে হয়, তা পরিবারের অন্য সদস্যরা ভাবেন না। প্রসবকালীন সময়মতো হাসপাতালে না নেওয়ার কারণে দেশে ৫৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু ঘটে বাড়িতে। সেখানে করোনাকালে মায়েদের সেবাকেন্দ্রে যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা আরো বেড়েছে। ফলে মাতৃমৃত্যুও বেড়েছে। পরিবার ও সন্তানের বাবার সহযোগিতা ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে উঠা কঠিন। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের এখন এক সামাজিক যুদ্ধে নামতে হবে।’
দেশের মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মুরাদ আহমেদ বলেন, ‘দেশে মায়েদের অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও বাল্যবিবাহের মতো সংকট রয়েছে। আমাদের দেশের নারীরা গর্ভকালীন সময়ে এমনিতেই অপুষ্টিতে ভোগেন। এর সঙ্গে করোনাকালে যোগ হয়েছে বাল্যবিবাহের বাড়তি ঝোঁক। অল্প বয়সে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত মায়েদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ সব বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের ভাবতে হবে। আশার বিষয় হচ্ছে মায়েরা এখন চাইলে কোভিড-১৯ টিকা নিতে পারছেন। সর্বোপরি মাতৃত্ব নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া চলবে না।
অনুষ্ঠানে আরো যোগ দেন ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেড (ইউসিএল)-এর করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান শামীমা আক্তার ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ। ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন বিএইচআরএফের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাব্বি।
