জিয়ার লাশ রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ে কে নিয়ে গিয়েছিল :কাদের

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৯

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, পরাশ্রয়ী আন্দোলন-নির্ভর বিএনপি দেশের বিদ্যমান স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে নানামুখী তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে। আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম ক্যাম্পাসগুলো উত্তপ্ত করতে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে।

গতকাল তিনি তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ছাত্র-শিক্ষকরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তখন ঠুনকো অজুহাতে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার নোংরা রাজনীতি করছে বিএনপি।

ওবায়দুল কাদের বলেন,                 জিয়াউর রহমানের লাশ নাকি জেনারেল এরশাদ কাঁধে বহন করেছেন। এ ধরনের উত্তর দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করেন ফখরুল সাহেব। এরশাদ কফিন বহন করেছেন কিন্তু ভিতরে জিয়ার লাশ আছে—তাতো তিনি কখনো বলেননি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে তার লাশ রাঙ্গুনিয়া পাহাড়ে কে নিয়ে গিয়েছিল?

সাম্প্রদায়িক দানবদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতিদানবীয় অপতত্পরতা চালাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা সরকার নয়, বিএনপিই হচ্ছে আসল দানবীয় শক্তি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে। আর বিএনপি এনে দিয়েছিল পরনির্ভরতার শৃঙ্খল।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, শীত-গ্রীষ্ম পেরিয়ে এখন বিএনপি শরত্কালে এসে সরকার হটানোর দিবাস্বপ্ন দেখছে। জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়েও বিএনপি মহাসচিব কখনো কোনো প্রশ্নেরই জবাব দেন না। প্রশ্ন করলে মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে সামঞ্জস্যহীন জবাব দেন।

নাগরিক হিসেবে সবার সমান

অধিকার রয়েছে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু না ভাবার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান সুযোগ ও অধিকার রয়েছে। গতকাল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি আরো বলেন, মাঝে-মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে একটি অশুভ চক্র এদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যে আঘাত আনার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, আপনাদের কোনো ভয় নাই। বিভেদের কৃত্রিম প্রাচীর গড়তে যারা অপচেষ্টা করে, তারা কোনোদিন সফল হবে না।

তিনি বলেন, অপকর্মকারীদের কোনো রাজনৈতিক দল নেই। নিজ দল আওয়ামী লীগের কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনা সরকার একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন দেখি, কিছু কিছু জায়গায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দিত। এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার ও বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল।