প্রেমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আরজু (২৭) নামের এক নৌকার মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাইজিদ বোস্তামী ঐ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরো দুই জনকে গ্রেফতার করা যায়নি। নিহত আরজু মাঝি সিংড়া উপজেলার চামারি ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের কদম আলীর ছেলে। আর অভিযুক্ত বাইজিদ গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি গ্রামের নাছির বোস্তামীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, আরজু মাঝির প্রতিবেশি এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে বাইজিদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সূত্র ধরে বাইজিদ ঐ গ্রামে ঘন ঘন যাতায়াত শুরু করে। সম্প্রতি এনিয়ে আনন্দনগর গ্রামে বাইজিদ ও তার তিন বন্ধুর সঙ্গে আরজুর বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। স্বীকারোক্তিতে আটক বাইজিদ জানান, মূলত প্রেমে বাধা দিয়ে তাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিশোধ হিসেবেই আরজুকে তিন বন্ধু মিলে কুপিয়ে হত্যা করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চলনবিল ভ্রমণের জন্য কৌশলে ৭০০ টাকায় আরজুর নৌকা ভাড়ায় নেয় অভিযুক্ত বাইজিদ ও তার বন্ধুরা। সন্ধ্যার পর আরজু তার নৌকায় বাইজিদদের নিয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাতে নৌকাটি গুরুদাসপুর উপজেলার হরদোমা বিলে পৌঁছালে নৌকা থামিয়ে বাইজিদ ও তার বন্ধুরা মিলে গাঁজা সেবন করে।
একপর্যায়ে বাইজিদের দুই বন্ধুর একজন আরজুর পা ও গলা ধরে নৌকার সঙ্গে বেধে ফেলে। এসময় ১০ হাজার মুক্তিপণ দাবি করে তারা। টাকা আসতে দেরি হওয়ায় বাইজিদের এক বন্ধু কুড়াল দিয়ে আরজুর মাথার পিছনে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। শরীর নিস্তেজ হয়ে তাকে বিলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা বিল পুলিশ আরজুর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে অভিযুক্ত বাইজিদকে গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার অপর দুই বন্ধু পলাতক রয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহত আরজু মাঝির হত্যাকণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাইজিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
