মুক্তিযোদ্ধা মুসলেহা ইসলাম। যিনি মুক্তিযুদ্ধে ক্র্যাক প্লাটুনের মা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন, একজন গৃহিণী, মাত্র ৩০ বছর বয়সে চার সন্তান নিয়ে যিনি বিধবা হন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি তার বাসাকে মুক্তিযোদ্ধাদের অভয়ারণ্য হিসেবে তৈরি করেছিলেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ এর জন্য তার বাড়িটি ছিল বড় আশ্রয় কেন্দ্র। কিছুসংখ্যক সাহসী নবীন নারী ও পুরুষদের নিয়ে গঠিত এই ক্র্যাক প্লাটুন ছিল প্রথম দল, যারা গেরিলা যুদ্ধ ও আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত ও পর্যুদস্ত করেছিল।
গতকাল ৩০ আগস্ট ছিল ‘মুসলেহা ইসলামের বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলা চালানোর ৫০ বছর পূর্তি’। এ উপলক্ষ্যে ইসলাম পরিবারের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ ওয়াসিফ ইসলাম ও ক্র্যাক প্লাটুন পরিবারের সদস্যরা এই স্মরণসভার আয়োজন করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুসলেহা ইসলামের অবদান ও সাহসী কীর্তিকে স্মরণ করার জন্য এই স্মরণসভায় আয়োজন করা হয়েছে। মুসলেহা ইসলাম গত ৫ আগস্ট ৯৩ বছর বয়সে মারা যান।
স্মরণসভায় বক্তারা জানান, মুসলেহা ইসলাম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গেরিলা যোদ্ধাদের আক্রমণের নকশা প্রণয়ন ও ?বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতেন। তার স্বামী ফারুকুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর এই বাড়িতে মুসলেহা ইসলাম তার ছেলে সৈয়দ ওয়াসিফসহ অন্য দুই ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বাস করতেন। ১৯৭১ সালের ২৯-৩০ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী মুসলেহা ইসলামের ধানমন্ডির ৪ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়িটিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
