বামনায় আমন চারার সংকট

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৭

বিপাকে কৃষক

বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা

বামনায় আমন ধানের চারার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে অবিরাম ভারী বর্ষণ ও অতিজোয়ারের জলাবদ্ধতায় কৃষি জমির বীজতলা ও সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়। এতে আমন আবাদ মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ধানের চারার সংকটে পড়েন। ফলে কৃষকরা পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে চারা সংগ্রহ করছেন। এতে কৃষকরা একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে, অন্যদিকে যথাসময়ে চারা সংগ্রহ করতে না পারায় ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, উপজেলায় কোনো বিএডিসির ডিলার নেই। ফলে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বীজের চাহিদাকে পুঁজি করে চড়া দামে চারা বিক্রি করছে। ফলে বাধ্য হয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে চারা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিরামহীন ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় উপজেলার ৫৬০ হেক্টর আমন ধানের বীজতলার ৩৫০ হেক্টর ও ২০০ হেক্টর শাক-সবজি চাষকৃত জমির মধ্যে ১৩০ হেক্টর জমির বীজ ও শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএডিসির ব্রি-৫২, ব্রি-৭৬ ও ব্রি-৭৭ উপকূলের এ নিচু জমিতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বামনা সদর ইউনিয়নের কৃষক রুবেল, রামনা ইউনিয়নের চাষি মজিদ মিয়া, বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের চাষি কাঞ্চন মিয়া ও ডৌয়াতলা ইউনিয়নের চাষি পুলিন, সুনিল ও সজল জানান, চলতি বর্ষার জলাবদ্ধতায় তাদের ধানের পাশাপাশি সবজি চাষেও চরম ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবজি বাগানে নতুন করে চারা লাগানোর কোনো উপযুক্ত মাটি নেই। আমরা অনেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে চড়া মূল্যে (৪ হাজার টাকা পোন) কিছু ধানের চারা সংগ্রহ করেছি। এ বছর চাষের জমি ফাঁকা থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

বামনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্তী এদবর বলেন, সম্প্রতি অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায়র ফলে আমনের বীজতলা ও সবজি বাগানের ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে কৃষকরা বীজতলা করতে আগ্রহী নয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে সামনের রবি মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষিদের মাঝে বীজ, সার দ্রুত প্রদান করা হবে। আর ডিলার না থাকায় কৃষকদের পার্শ্ববর্তী জেলা, উপজেলা থেকে উচ্চ দামে বীজধান সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে আগ্রহী ব্যক্তিদের মাঝে বীজ ডিলার নিয়োগ করা গেলে এ কৃত্রিম সংকট থাকবে না।