ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে যেসব ব্যাংক আলোচিত-সমালোচিত তাদের মধ্যে পদ্মা ব্যাংক অন্যতম। বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসার আগ থেকেই আলোচনায় ছিল ব্যাংকটি। এরপর কার্যক্রমে এসেও সে আলোচনা থেকে বাইরে বের হতে পারছে না। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণের প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি খাতের এ ব্যাংক। অবশ্য এ বিষয়ে খুব বেশি অগ্রগতি হবে না বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পদ্মা ব্যাংকের আগের নাম ফারমার্স ব্যাংক। অনিয়ম ও পরিচালকদের লুণ্ঠনের মনোভাবের কারণে ফারমার্স ব্যাংক নামটি ব্যাপকহারে নেতিবাচক হয়ে যায়। ফলে আগের নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের মূল কাজ ঋণ বিতরণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ঋণ বিতরণ করতে পারেনি এ ব্যাংক। এরপর এক পর্যায়ে ব্যাংকের মালিকানায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বর্তমানের ব্যাংকের রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ৬৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ফলে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদেও এ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের এমডিরা রয়েছেন।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একীভূত হওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো সাড়া পায়নি পদ্মা ব্যাংক। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে সরকারের তরফ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা তাদের কাছে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা পদ্মা ব্যাংকের পক্ষ থেকে একীভূতকরণ প্রস্তাব-সংক্রান্ত কোনো চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেনি। এছাড়া ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যরাও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে পদ্মা ব্যাংকের পর্ষদ সভায় কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। ফলে এ বিষয়টির ফলাফল এখন কোন দিকে গড়াবে তা বলা যাচ্ছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) যে কোনো একটির সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড। বিভাগটির সদ্য বিদায়ি সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম দায়িত্বে নিয়োজিত থাকাকালে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়।
অর্থমন্ত্রণালয়ে পদ্মা ব্যাংকের এমডি মো. এহসান খসরুর দেওয়া চিঠিতে প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ও অতিরিক্ত সাব-অর্ডিনেট বন্ড ইস্যু বা রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের যে কোনো একটির সঙ্গে একীভূতকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ন্যূনতম মূলধন পর্যাপ্ততা সাড়ে ১২ শতাংশে ধরে রাখতে হলে ব্যাংকটির বর্তমানে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার টিয়ার-১ মূলধন প্রয়োজন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যুর কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে পদ্মা ব্যাংকে রক্ষিত সরকারি সংস্থার আমানত ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ও সরকারি ব্যাংকের আমানতের ৬০০ কোটি টাকা অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারে সাবস্ক্রাইব করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ৬০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত সাব-অর্ডিনেট বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততা ধরে রাখা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ-অধিগ্রহণ প্রস্তাবের বিষয়ে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ও অতিরিক্ত সাব-অর্ডিনেট বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন পুনর্গঠন যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও জটিল। তাছাড়া অংশীদার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নতুন মূলধন বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করেও আশানুরূপ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার পরও সরকারি আমানত ও সরকারি ব্যাংকগুলোর আমানত অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারে রূপান্তরের প্রক্রিয়া আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে। এ অবস্থায় পদ্মা ব্যাংককে অবিলম্বে একীভূতকরণ-অধিগ্রহণ আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত চার অংশীদার ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করা যেতে পারে। কিংবা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) মতো কোনো ব্যাংকের সঙ্গেও পদ্মা ব্যাংকের একীভূতকরণ-অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।
