আফগান সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা পাকিস্তানের

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২১

রয়টার্স

তালেবানের নতুন সরকার গঠনের চেষ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে পাকিস্তানের। আফগান সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানি একটি তালেবান গোষ্ঠীর হামলার কারণে উদ্বেগে পড়েছে ইসলামাবাদ। গত দুই দশকে পাকিস্তানি ঐ তালেবান গোষ্ঠীর ‘জঙ্গি’ হামলায় দেশটির কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

আফগানিস্তান নিয়ে নিরাপত্তা হুমকির মধ্যেই কদিন আগে কাবুল বিমানবন্দরে ইসলামিক স্টেটের হামলায় ১০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনাও রয়েছেন। এর পরপরই কাবুল বিমানবন্দরে রকেট হামলাও চালানো হয় এবং গত রবিবার আফগান সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিদের গুলিতে দুজন পাকিস্তানি সেনা মারা যান। আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে জঙ্গি হামলা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পাকিস্তানের এক জন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন মাস খুবই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে যেতে হবে।’ ইসলামিক স্টেটসহ অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকির কথা উল্লেখ করে ঐ কর্মকর্তা বলেন, ‘তালেবানকে নিজেদের এলাকা নিয়ন্ত্রণে সেনাদের আবারও সংগঠিত করতে আমাদের (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়) সহায়তা করা উচিত।’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বরাবরই আফগানিস্তানের তালেবানকে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তান সরকার অবশ্য বলছে, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তালেবানের ওপর তাদের প্রভাব কমে এসেছে। পাকিস্তানে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এক জন কর্মকর্তা জানান, তালেবান যাতে আফগান বাহিনীকে ফের সংগঠিত করতে পারে সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পাঠানোর পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। এমনকি পাকিস্তানের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) প্রধানকেও পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানান ঐ কর্মকর্তা।

আফগানিস্তানের তালেবান প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছে, পাকিস্তান কিংবা পাশের কোনো দেশে কারো হামলার পরিকল্পনা তারা বরদাস্ত করবে না। ঐ কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানে হামলা করতে চায় এমন জঙ্গিদের আফগানিস্তানের তালেবান তাদের হাতে তুলে দেবে বলে আশা করছে ইসলামাবাদ। অন্তত দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চল থেকে তাদের বিতাড়িত করবে।