প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি এবং বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে ১৫ আগস্টের খুনিদেরকে যেমন পুরস্কৃত করেছিল; খালেদা জিয়া তার থেকে আরো একধাপ ওপরে যেয়ে খুনি কর্নেল রশিদ ও মেজর হুদাকে জনগণের পার্লামেন্টে এনে বসায়। গতকাল বুধবার শুরু হওয়া সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে প্রয়াত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চলমান সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে শোক প্রস্তাব গ্রহণের আগে তার ওপর আলোচনা হয়। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ গত ৩০ জুলাই ইন্তেকাল করেন।
সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকালের বৈঠকে আলী আশরাফ সম্পর্কে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলী আশরাফকে হারিয়ে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারাল। আমরা একজন দক্ষ সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি, ?যিনি একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে অনেক নবীণ সংসদ সদস্যকে ট্রেনিং দেওয়া বা বুদ্ধি পরামর্শ দেওয়া সেটাও দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো—তিনি যে এলাকা থেকে নির্বাচন করতেন চান্দিনা, সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি কর্নেল রশিদের বাড়ি। পাশেই খুনি মোশতাকের বাড়ি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন হয়, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে যে নির্বাচন করেছিল। যে নির্বাচন দেশের সব রাজনৈতিক দল বয়কট করেছিল। একটা ভোটারবিহীন নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ঐ চান্দিনা থেকে কর্নেল রশিদকে সংসদ সদস্য করে সংসদে নিয়ে আসে এবং বিরোধী দলের নেতার আসনে বসান খালেদা জিয়া। দুই জনকে এনেছিলেন। মেজর হুদাকে চুয়াডাঙ্গা থেকে, আর কর্নেল রশিদকে চান্দিনা থেকে।
আলী আশরাফের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন—আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ফারুক খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, মুজিবুল হক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির (জাপা) জি এম কাদের, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কাজী ফিরোজ রশিদ, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবং গণফোরাম থেকে নির্বাচিত হয়ে পরে বহিষ্কৃত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী চলতি অধিবেশনের জন্য সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন—শহীদুজ্জামান সরকার, শামসুল হক টুকু, আব্দুল মোমিন মণ্ডল, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও শেখ এ্যানি রহমান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তাদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
শোক প্রস্তাব
অধ্যাপক আলী আশরাফ ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ, তোফাজ্জল হোসেন সরকার, জামাল উদ্দিন আহম্মদ, খুররম খান চৌধুরী, মো. রেজা খান, অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম ও আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানায় সংসদ।
এছাড়া গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর, গীতিকার ফজল-এ-খোদা, হাইকোর্টের বিচারপতি আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব এস এ সামাদ, ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং, জার্মানির ফুটবলার গার্ড মুলার, সমাজ কল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের মা শামসুন্নাহার বেগম, সংসদ সদস্য মমতা হেনা লাভলীর মা আনোয়ারা খানম, সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের মা মানোয়ারা বেগম, সাবেক তথ্য কমিশনার আবু তাহের, কুলিয়ারচর গ্রুপের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী মুছা মিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলট নওশাদ আতাউল কাইউম, সংসদ সচিবালয়ের সাবেক সচিব আবুল হাশেম, সংসদ সচিবালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী শ্রী শংকরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
অধ্যাপক আলী আশরাফের জীবনের ওপর আলোচনা ও সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর স্পিকার সংসদ অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতুবি করেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকায় চলতি অধিবেশনও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। আগামীকাল ছুটির দিন শুক্রবারও অধিবেশন বসবে। চার কার্যদিবসের মধ্য দিয়ে শনিবার এই অধিবেশন শেষ হতে পারে।
