আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে চালের উত্পাদন দ্বিগুণ করতে কোথায় কোথায় বিনিয়োগ ও কী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে তার একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এতে বলা হয়েছে, উন্নত জাত-প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বিদ্যমান উত্পাদন বা ফলন ব্যবধান কমানো এবং অনাবাদি জমিতে আবাদ বৃদ্ধিসহ সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালে চালের উত্পাদন ৪ কোটি ৬৯ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে চালের উত্পাদন ২০৪০ সালে ৫ কোটি ৪০ লাখ টন এবং ২০৫০ সালে ৬ কোটি ৮ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব। যেখানে বর্তমানে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে চাল উত্পাদন হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই কৌশলপত্র উপস্থাপন ও মোড়ক উন্মোচন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে একদিকে আবাদি জমি কমছে, বিপরীতে বাড়ছে জনসংখ্যা ও জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি। এই ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে চালের উত্পাদন বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ২০৫০ সালে মানুষের আয় আরো বাড়বে, ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে। খাবারের ভোগ ও চাহিদা বাড়বে। এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই কৌশলপত্রে উন্নত ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ফলন ব্যবধান কমানোর মাধ্যমে উত্পাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য ধানের পুষ্টিমান উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য উত্পাদনের বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। উত্পাদন দ্বিগুণ করতে ব্রি প্রণীত ডিআরপি কৌশলপত্রটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ডিআরপিতে চালের উত্পাদন দ্বিগুণ করার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে—তা স্বপ্ন নয় বরং অর্জনযোগ্য ও বাস্তবসম্মত। দেশের অস্থিত্বের জন্য, মানুষের জন্য এটি অপরিহার্য।
মূলপ্রবন্ধে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ডাবলিং রাইস প্রোডাক্টিভিটি—ডিআরপি একটি সমন্বিত মডেল, যেখানে ধানের ফলন প্রতিনিয়ত বাড়বে, অনাবাদি ও পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে, ব্যাপক হারে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ঘটবে ও ধানের গুণমান বাড়বে। ধান ও চালের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং ধান উত্পাদনে ঝুঁকি কমাবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ ও ইরির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হোমনাথ ভান্ডারি। এ ছাড়া, বিশেষ অতিথি এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনানো হয়।
