দুর্নীতির মামলায় ওসি প্রদীপের বিচার শুরু

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০১

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। মামলার অপর আসামি প্রদীপের পলাতক স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শেষে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ-১ শেখ মো. আশফাকুর রহমানের আদালত গতকাল বুধবার এ আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রদীপের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

গতকাল বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে প্রদীপকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আদালতে আনা হয়। শুনানির সময় বিচারকের এজলাসে হাজির করা হলে তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। কয়েকজন আত্মীয়স্বজন আদালতে প্রদীপের সঙ্গে দেখা করতে যান। জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় গতকালই প্রদীপকে আবার কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়।  

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। এছাড়া আদালত মামলার পলাতক আসামি চুমকি কারণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও ক্রোকি পরোয়ানা জারি করেছে। মামলার আগামী ধার্য তারিখে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে আদালত। প্রদীপের জামিনের জন্য তার আইনজীবী আবেদন করেছিলেন। আদালত নামঞ্জুর করেছে।

দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২-এর উপসহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন গত ২৬ জুলাই আদালতে প্রদীপের দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণকে আসামি করা হয়। সাক্ষী করা হয় ২৯ জনকে। অভিযোগপত্রে প্রদীপের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে সেই সম্পদ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর ও স্থানান্তরপূর্বক মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ উল্লেখ করা হয়। এছাড়া উভয়ের বিরুদ্ধে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকার অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখের তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে দুদক।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ প্রদীপের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকা প্রদীপ ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে দুদক অভিযোগ করে। এর বাইরে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য বিবরণীতে গোপন করার অভিযোগও আনা হয়।