ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৭

রুবেল কান্তি নাথ

 

‘তেত্রিশ কোটি দেবতাও নারীর মন সম্পর্কে জানেন না।’

—এই মহাবাক্যটি যে জ্ঞানী, গুণী ও দার্শনিক সাহেব কইছেন; তারে যদি একবার হাতের কাছে পাইতাম, তাইলে কী করতাম জানেন?

বেটারে দুই হাতে শক্ত কইরা জাপটাইয়া ধইরা তার নরম গালে কইষা একটা না, না, দুইটা চুম্মা খাইতাম! বেটা আসলেই হাচা কথা কইছে। যেইহানে মাইয়াগো মনের অন্দরমহলের কথা স্বয়ং দেবতারাই খুঁইজ্জা পায় না, সেইহানে আমি আপনে কোন তেলাপোকা থুক্কু, ছারপোকা!

ভালোবাসার টানে তার কাছে গিয়েছি,

ভালোবাসি বলতে গিয়ে দাঁত হারিয়েছি।

—আমাগো এলাকার জনৈক এক কবি সাহেব ভালোবাসার ফান্দে পইড়া এই মহাকাব্যটি (!) রচনা করছেন। যদিও কবি বাবু প্রেমে সফল হইতে পারেন নাই। বরং দাঁত হারাইয়া সবার অট্টহাসির খোরাক হইয়াছেন।

আরেক মাঞ্জামারা মার্কা প্রেমিক আক্কাছ এতদিন প্রিয়তমাকে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট হইতে শুরু কইরা সবখানে ভুঁড়িভোজন করাইয়া, মোটর সাইকেলের পিছনে অমুক-তমুক পার্ক ঘুরাইয়া, বছরখানেক প্রেম কইরা সময় ফুরাইয়া, সাথে-সাথে পকেটের সব ট্যাকা ওড়াইয়া, যখন প্রেমিকার কাছে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করল, তখন প্রেমিকার সেই অতি পুরাতন ডায়ালগ, ‘আসলে আমি তোমাকে আমার একজন খুব ভালো বন্ধু হিসেবে জানতাম। বন্ধু তো বড় ভাইয়ের মতোনই! আমি তো তোমাকে বড় ভাইয়ের নজরেই দেখি। তুমি আজ এসব কী বলছ! ছিঃ ছিঃ ছিঃ... তুমি এত খারাপ!’

বুঝতেই পারতাছেন, জনাব আক্কাছ মিয়ার অবস্থা তখন কী হইয়াছিল। অভিনয় পটিয়সী মাইয়াটার ফান্দে পইড়া আক্কাছ বাছা বর্তমানে পুরোপুরি দেবধড়াস্! মানে, শরত্ বাবুর ‘দেবদাস’-এর আধুনিক সংস্করণ আর কি!

হাতে তরল আগুনের বোতল নিয়া সে গাইয়া যায় সুবীর নন্দীর বিখ্যাত সেই গান—

‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই... কিছু নেই...’

সখী, ভালোবাসা কারে কয়?

সে কি কেবলই যাতনাময়?

আমার বা আপনাগো তো একই প্রশ্ন, আসলে কি সে কেবলই যাতনাময় মানে, ছ্যাঁকাময়?

আমার এক আলট্রাস্মার্ট বন্ধু, এক হিসেবে বন্ধু নামের কুলাঙ্গার, এরমধ্যে তার প্রেম কইরা রেকর্ড গড়বার দ্বারপ্রান্তে। এই ভালোবাসা দিবসে তার প্রেমের সংখ্যা হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হইতে যাইতাছে।

এই বাচাল, লাফাঙ্গা পোলাটার লগে মাইয়ারা এইভাবে টাংকি মারে কেন, সত্যিই আমি তা হাজার গবেষণা করেও বুঝবার পারি নাই। তয় একটা ব্যাপার ঠিকই বুঝবার পারছি, পোলাটার চেহারা-সুরতে বান্দরের জাত ভাই হইলেও তার ট্যাকার ঝোলাটা বেশ বড়। সুতরাং আপনারাও হয়তো এতক্ষণে রহস্যটা ধরে ফেলেছেন, আমি আর কী বলি!

আমাগো এলাকার বিশেষভাবে কুখ্যাত পাগল লেদু পাগলার মুখে একটি কুখ্যাত গান সবসময় শুনতে পাই। গানটার কথা বলার আগে কানে-কানে আপনাদের বলি, লেদু পাগলাও অলরেডি তিন-তিনটা ছ্যাঁকা খাইয়া ফেলছে। কাউরে কইয়েন না আবার। লেদু পাগলা জানতে পারলে লাঠির বাড়ি একটাও আপনের মাথা ছাড়া মাটিতে পড়ব না কইলাম।

গানটা হইল—

‘ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই,

ভালোবাইসা ভালো নাই!’