প্রায় সব শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে দেশের স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মান অর্জন করার। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা করোনাভাইরাসের কারণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বারবার ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর ফলে হতাশায় দিন কাটাতে হচ্ছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছে প্রথমবার কোথাও ভর্তি না হতে পারা পুনরায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। পরপর দুবার কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় সামাজিকভাবে অনেক অপদস্ত হতে হচ্ছে তাদের। সময়মতো ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে সামর্থ্যবান শিক্ষার্থীর অনেকেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। সামর্থ্য না থাকায় এদিকে এগিয়ে যেতে পারছে না দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। ফলে তাদের ক্যারিয়ার ও চাকরিজীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করার আগেই যেন তারা সেশনজট নামক সময়ব্যাধিতে আটকা পড়ে যাচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর প্রধান পরিচয় হলো তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা যেন প্রতিটা মুহূর্তে পরিচয়হীনতায় ভুগছে। পরীক্ষাগ্রহণে অনিশ্চয়তার ফলে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। ফলে কর্মজীবনে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে। ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী। পুনরায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীসহ এই সংখ্যা আরো বেশি, যারা সবাই ভর্তি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। তাই তাদের হতাশার অবসান ঘটাতে পরীক্ষা গ্রহণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শেখ শাহরিয়ার হোসেন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
